২৮ নভেম্বর আধুনিক বাংলা ও নজরুল সঙ্গীতানুষ্ঠান

Mridula2আগামী ২৮ নভেম্বর ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে আধুনিক বাংলা গান ও নজরুল সঙ্গিতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । সঙ্গীতানুষ্ঠান সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মৃদুলা সমাদ্দার। রাজধানীর গুলশান -১ এ অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে আগামী ২৮ নভেম্বর শনিবার, সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত হবে।

মৃদুলা সমাদ্দার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে একই ডিপার্টমেন্ট থেকে এম ফিল করছেন। তিনি ‘শিক্ষা সপ্তাহ ২০০৩’, ‘এটিএন তারকা ২০০৬’ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন এবং ‘সার্ক শিশু পুরস্কার ২০০০’ এবং জাতীয় পুরস্কার সহ তিনি অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন । বর্তমানে তিনি এক্সেল একাডেমীতে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন । মিস সমাদ্দার অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বেশ কিছু একক ও দ্বৈত অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, আধুনিক বাংলা ও নজরুল সঙ্গীতানুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে (আমন্ত্রণ পাস সংগ্রহ করার
কোন প্রয়োজন নেই)। কর্মসূচি চলাকালে কোন ধরনের ব্যাগ বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ঠিকানা:
ইন্দিরা গান্ধী সংস্কৃতি কেন্দ্র, বাড়ি নং: ৩৫, রোড নং: ২৪, গুলশান-১, ঢাকা।

পাবনায় দু’দিনব্যাপী লালন উৎসব শুরু

Lalon1দু’ দিনব্যাপী লালন উৎসব শুক্রবার শুরু হয়েছে। লালন স্মৃতি পরিষদ পাবনার উদ্যোগে বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল মুক্তমঞ্চে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন, শিল্পপতি কবি সোহানী হোসেন।

উৎসবের আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে উৎসবে প্রধান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন, কমরেড জসিম উদ্দিন মন্ডল, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, শিল্পপতি রহুল আমিন বিশ্বাস রানা। মুখ্য আলোচক ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনোয়ার হোসেন জাহেদী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লালনগীতি পরিবেশন করেন, ফরিদা পারভীন।

শনিবার সমাপনী দিবসে প্রধান ও বিশেষ অতিথি থাকবেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন। মুখ্য আলোচক থাকবেন লালন গবেষক আবদেল মান্নান। সমাপনী দিবসে কিরণচন্দ্র রায় ও চন্দন মজুমদার লালনগীতি পরিবেশন করবেন।

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব’

Internation Folkপর্দা উঠলো লোকসংগীত এর অনুষ্ঠান ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব’র।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের পর্দা উঠে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পী নিশীথ কামালসহ আরো অনেকে।

পল্লবী ড্যান্স সেন্টারে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। মেরিল নিবেদিত তিন দিনের এ উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে মাছরাঙা টেলিভিশন ও সান ইভেন্টস। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ উৎসবে গান করবেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও চীনের শিল্পীরা। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার ও ১৪ নভেম্বর শনিবার বিকেল পাঁচটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত।

এই লোকসংগীত উৎসবে বৃহষ্পতিবার অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কন্ঠশিল্পী তপন চৌধুরি। এসময় বাংলাদেশ থেকে চারজন যথাক্রমে লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার, শফি মন্ডল ও কিরণ চন্দ্র রয় গান পরিবেশন করেন।

এছাড়াও লাবিক কুমার গৌরবের সম্মিলিত পরিবেশনা এবং ভারতের দ্য অর্ক মুখার্জি কালেক্টিভ, সাঈন জহুর এবং পাপন অ্যান্ড দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকগান।

নচিকেতা চট্রগ্রামে লাইভ কনসার্টে

Nochiketa১৩ নভেম্বর চট্রগ্রামে লাইভ কনসার্টে অংশ নিবেন নচিকেতা। নচিকেতা ছাড়াও এ কনসার্টে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন সা-রে-গা-মা-পা খ্যাত আইকন ব্যান্ডের প্রমীলা শিল্পী মাধুরীমা বাসু।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে এ কনসার্ট।

এই কনর্সাট আয়োজন করছেন রেড ভেলভেট ইভেন্টস ও সহযোগী হিসেবে আছে রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংকস এবং বেঙ্গল গ্রুপ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই টিকিট বিক্রি শেষের পথে। কনসার্টটি গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তারিখ পরিবর্তন করা হয়। টিকেটের মূল্য ৮০০ টাকা ও ১২’শ টাকা।

টিকেট পাওয়া যাবে- প্রেসক্লাবের বাতিঘর, হালিশহর কে ব্লকের ফ্লেভারর্স, জাকির হোসেন রোডের হালদি এরাবিয়ান রেস্টুরেন্ট, প্রবর্তক মোড়ের কোকোলোকো ও জামালখানের ইডলিকার্ট।এই ছাড়া ও স্যানমার ওশান সিটি’র নেক্সাস কমিউনিকেশন ও ইফতি মিউজিক, স্টেডিয়াম চত্ত্বরের গ্রিডি গাটস ও রেড চিলি রেস্টুরেন্ট, শৈল্পিক ফ্যাশন হাউজ (নিউ মার্কেট ও ব্যাংকক সিংগাপুর মার্কেট শো রুম), এমএফসি, গোলপাহাড় ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড আউটলেট।

রেস্টুরেন্ট নিয়ে ব্যস্ত পারভেজ সাজ্জাদ

Pavezপারভেজ সাজ্জাদ। ব্যতিক্রমধর্মী গানের জনপ্রিয় গায়ক। তার গায়কী ঢংই তাকে বর্তমান সময়ের অন্যান্য শিল্পীদের থেকে আলাদা করেছে। এই সময়ে তিনি ব্যস্ত তার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা নিয়ে। এবার তার রেস্টুরেন্টের তিন নম্বর শাখা খুলছেন কাওরান বাজারে।

‘ভর্তা ভাত’ নামের রেস্টুরেন্টটি নিয়ে পারভেজ বলেন, ‘ট্রেডিশনাল বাংলা ফুড পাওয়া যায় এই রেস্টুরেন্টে। যা ভেরি গুড স্ট্যান্ডার্ড এর।’ তার অন্য দুটি শাখার একটি মগবাজার ও দ্বিতীয়টি ফকিরাপুলে অবস্থিত। এছাড়া পারভেজ এখন তার পরবর্তী সলো অ্যালবাম নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবছরই অ্যালবামটি প্রকাশ করবেন বলে তিনি জানান। অ্যালবামটিতে ৮টি গান থাকবে যার ৭টির কাজই ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। এছাড়া সামনের বছর একদম ভিন্ন ঘরানার সুফি গান নিয়ে তিনি হাজির হবেন। এমন কথাই জানালেন পারভেজ সাজ্জাদ

অনলাইনে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করছেন মনির খান

Monir khanমনির খান তার নতুন অ্যালবামের কাজ শেষ করেছেন। ‘লীলাবতী’ নামের নতুন অ্যালবামটির সব গানের কথা ও সুর করেছেন মিল্টন খন্দকার। নভেম্বর মাসেই অ্যালবামটি মুক্তির সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মনির খান জানান। অ্যালবামটিতে মোট ১০টি গান থাকছে।

এছাড়া মনির খান গত সপ্তাহেই একটি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। “আমার এ বুকে” শিরোনামের চলচ্চিত্রটিতে তিনি ও আখিঁ আলমগীর একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এফ আই মানিক পরিচালিত এই সিনেমা ছাড়াও মনির খান বিভিন্ন চলচ্চিত্রে গান গাইছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্টেজ শো ও টিভিতে তিনি নিয়মিত পারফর্ম। করছেন। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই জনপ্রিয় গায়ক। অনলাইনে অ্যালবামটি রিলিজের কয়েকমাস পরেই সিডি আকারে আবার তা প্রকাশ করা হবে। এমনটাই জানালেন এই জনপ্রিয় গায়ক।

১০২ মিলিয়নের বেশি লাইক নিয়ে শাকিরা

sakira-011১০২ মিলিয়নের বেশি লাইক নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে শাকিরার ফেসবুক পেজ। এবার তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারেও। টুইটারে শাকিরার ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৫ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও নৃত্যশিল্পী শাকিরার ভক্ত-অনুসারীর সংখ্যা সারা বিশ্বের সব দেশেই আছে। বিপুল সংখ্যক ফলোয়ারের সংখ্যায় তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত।

শাকিরা এ পর্যন্ত দু’বার গ্র্যামি পুরস্কার, সাতবার ল্যাটিন গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন। এমনকি তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন।

আর বিএমআই-এর তথ্যানুসারে, তিনি কলম্বিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম বিক্রীত শিল্পী।

এছাড়াও শাকিরা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সুযোগ পাওয়া একমাত্র শিল্পী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০, কানাডিয়ান বিলবোর্ড হট ১০০, অস্ট্রেলিয়ান এআরআইএ চার্ট, ও ইউকে সিঙ্গেলস চার্ট-এ প্রথম স্থান পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। শাকিরা টুইটারে ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, টুইটারে বর্তমানে আমার ভক্তের সংখ্যা ৩৫ মিলিয়ন। আর এজন্য প্রথমেই আমি আমার ভক্তদের ধন্যবাদ জানাই।

ভক্তদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত, আমার খুবই ভালোলাগে যখন আমি আমার ভক্তদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শুভেচ্ছা বার্তা পেয়ে থাকি।

ঠিক কিভাবে আমার ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত তা আমার জানা নেই, তবে আমিও আমার ভক্তদের তাদের মতো করেই ভালোবাসি।
আজ আমি আমার ভক্তদের জন্যই এই অবস্থাতে পৌঁছাতে পেরেছি।

বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস

Shah abdul karimগানে গানে পিরিতি এতোটাই বাড়িয়ে গেলেন যে, তার অনুপস্থিতি আজও আমাদের ভারাক্রান্ত করে। আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ছয় বছর আগের এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। এই যে চলে যাওয়া এ অমোঘ নিয়তি, যেতেই হবে। তবে যারা কীর্তিমান পুরুষ তারা যাওয়ার আগে ছাপ রেখে যান। সেখানে থাকে অজস্র মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এমনকি দুঃখবোধ।

হাওরবেষ্টিত ভাটি বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম ‘উজান ধল’। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এই গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মরমী সাধক বাউল শাহ্ আব্দুল করিম। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। পানির মধ্যে দূরে বহুদূরে ছিটেফোঁটার মতো দু’চারটি গ্রাম। হওরাঞ্চলে বছরের অর্ধেক সময় কোনো কাজ থাকে না। দারিদ্র্য সেখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলা থেকেই সেই দারিদ্র্য সঙ্গী করে আব্দুল করিমের বেড়ে ওঠা। পেটের দায়ে কৃষি কাজে শ্রম দিয়েছেন অন্যের জমিতে। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কালনী নদী। হাওর আর কালনীর ঢেউ এবং হেমন্তে হাওরের বুকে সবুজ ফসলের দোলা তাকে উদাসী করে তোলে। কখনও হাতছাড়া করেননি প্রিয় একতারা; জীবদ্দশায় এটি ছিল নিত্যসঙ্গী।

জীবনের শুরু থেকেই আব্দুল করিম ভাবনা ও আবেগ গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে চাইতেন। এটিই ছিল তার প্রথম ভালোলাগা। সেই ভালোলাগার স্রোত ওই কালনীর ঢেউয়ের মতোই তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এরপর পরিচয় শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বক্সের সঙ্গে। এই আধ্যাত্মিক বাউল সাধকের নিকট তিনি দীক্ষা নেন। এ ছাড়াও তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ওস্তাদ করম উদ্দীন ও রশিদ উদ্দীনের। এরা দুজনই বাউল সাধক।

যে হাওরের নিলুয়া বাতাস তাকে করে তুলেছিল বাউল, সেই বাতাসে আলিঙ্গন করে নিজ বসত বাড়ির উঠানে চিরনিদ্রায় রয়েছেন আব্দুল করিম। পাশেই শুয়ে আছেন প্রিয়তমা স্ত্রী সরলা বিবি। ‘সরল তুমি শান্ত তুমি নূরের পুতুলা, সরল জানিয়া নাম রাখি সরলা’, এক সময়ের মনজান বিবি প্রিয়তম স্বামীর এমন গানের মধ্য দিয়ে হয়ে যান সরলা বিবি। যিনি নিজেও সাধক ছিলেন। স্বামীর বাউল সম্রাট হয়ে ওঠার পেছনে তার অবদান ও অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি। মূলত ২০০১ সালে দেশের সর্বোচ্চ খেতাব একুশে পদক প্রাপ্তির পরই আব্দুল করিম প্রচারে আসেন। তখন তার বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই, অর্থাৎ অথর্ব বৃদ্ধ। ঠিক মতো চলতে, বলতে এমনকি শুনতেও পান না। জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি বহু সম্মাননা পেয়েছেন। যদি উপযুক্ত সময়ে এই সম্মাননা পেতেন, উৎসাহ আর উদ্দীপনায় হয়তো আমাদের আরও অনেক দিয়ে যেতে পারতেন। খুব আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, আব্দুল করিমের একমাত্র সন্তান বাউল শাহ্ নূর জালাল। কিন্তু এ দেশে বাস্তবতা হলো, গুণীর স্বীকৃতি মেলে অসময়ে অথবা মৃত্যুর পরে।

প্রচলিত এই সমাজ আব্দুল করিমকে একাধিকবার বিতাড়িত করেছে, সমাজচ্যুত করেছে। দেখা গেছে কখনও কখনও এই সমাজ তাকে পুনরায় ফিরিয়েও নিয়েছে। রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের নামে গালিগালাজ করে তাকে কাফের, মুরতাদ বলে তার বিরুদ্ধে অপব্যাখ্যা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঈদের নামাজের খুতবাতেও তার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, জনৈক শিষ্যের মৃত্যু হলে তিনি গ্রামের মসজিদের মওলানাকে জানাজা পড়াতে বললে, মওলানা এক কথায় অস্বীকার করে বলেছিলেন, কাফের মুরতাদের জানাজা পড়া মুসলমানের জন্য হারাম। অবশেষে অনেক অনুনয় বিনয়ের পর শর্তজুড়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, যদি তওবা পড়ে এই সব গানবাজনার বেদাতী কায়কারবার চিরতরে বন্ধ করে দাও তাহলেই কেবল জানাজা পড়ানো যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও আব্দুল করিম সে শর্ত প্রত্যাখ্যান করার মতো সৎ সাহস দেখাতে পেরেছিলেন।অথচ বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে সমাজ তাকে ঘৃণা করতো, অবহেলা করতো, আজ সেই সমাজের লোকেরাই গর্ব করে বলে, বাউল শাহ্ আব্দুল করিম এই হাওরের সন্তান, আমাদের গ্রামের সন্তান।

তার গান গেয়ে বর্তমানে অনেকেই নিজের নাম তথাকথিত বড় শিল্পীর কাতারে লিখিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সাক্ষাতকারে তাদের মুখে আব্দুল করিমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ফুলঝুড়ি শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে জীবদ্দশায় আব্দুল করিম এদের কারও কাছে কোনো প্রকার সহায়তা তো দূরের কথা কৃতজ্ঞতা পর্যন্ত পাননি। আবার কেউ কেউ তাকে ব্যবহার করে নিজেকে শিল্প সাহিত্যের বৃহৎ সমঝদারের আসনে বসাবার প্রয়াস পেয়েছেন। এ সব কিছুর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ওই একটাই- তা হলো অর্থের মোহ এবং সস্তা যশ খ্যাতির প্রত্যাশা। ছেলে নূর জালালের কথায় এমনও জানা যায়, দেশের বরেণ্য এক কথাসাহিত্যিক কোনো এক অনুষ্ঠানে আব্দুল করিমকে সম্মানের সঙ্গে যত্ন করে ঢাকা নিয়ে আসেন। রাতভর সেখানে অনুষ্ঠান হয়। আব্দুল করিম সেখানে গান পরিবেশন করেন। কাজ শেষে সেই সাহিত্যিক আব্দুল করিমের সঙ্গে দেখা না করে, অন্যের হাতে কিছু টাকা পাঠিয়ে বিদায় করে দেন। মৃত্যুর আগেও এই অবহেলার দুঃখ তিনি ভুলতে পারেননি।

বহুজাতিক ফোন কোম্পানিগুলো এ দেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার সবচেয়ে বড় ঠিকাদারে পরিণত হয়েছে। করিমের গানেও ছিল তাদের নজর। সে গান তারা যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। দেশের কপিরাইট বিধান মোতাবেক তার পরিবারের রয়ালটি পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা তা পাননি। শুধু তাই নয়, তারা আজ করিমের কবর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কবরের পাশেই চোখে পড়ে তাদের বিজ্ঞাপন। অথচ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আশ্চর্য রকমের নির্বিকার। আব্দুল করিম কিন্তু জীবদ্দশাতেই আঁচ করতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কী ঘটবে। পরিচিতজনদের কাছে আক্ষেপ করে সেকথা তিনি বলেও গেছেন, ‘মরার পর আমার হাড়-হাড্ডি নিয়েও ব্যবসা চলবে।’

বাউল শাহ্ আব্দুল করিম রচিত গানের ছয়টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে (কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, আফতাব সঙ্গীত, গণসঙ্গীত, কালনীর কোলে ও ভাটির চিঠি)। সিলেট শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান ছিলেন করিমের একান্ত ভক্ত। তিনিই তার লেখা গানের খাতা পৌঁছে দেন বাংলা একাডেমির শামসুজ্জামান খানের কাছে। মূলত এই হান্নানই বাউল করিমকে আবিষ্কার করে তুলে আনেন আজকের এই বৃহৎ পরিমণ্ডলে।

আব্দুল করিম অসংখ্য গান লিখে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার গান এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা গেছে। বর্তমানে অনেক শিল্পীকে বিভিন্নভাবে মূল সুরের বিকৃতি ঘটিয়ে করিমের গান গাইতে দেখা যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রবণতাটি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, গানের গীত পর্যন্ত ইচ্ছেমতো এদিক-সেদিক করে ফেলা হচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা তিনি জীবদ্দশাতেই দেখে গেছেন আর নীরবে চোখের জল ফেলেছেন। এক সময় অতিষ্ঠ হয়ে কাছেন মানুষদের বলেছেন, ‘আমি যেহেতু গানের স্বরলিপি প্রণয়ন করে যেতে পারলাম না, তাই সুরের খানিকটা এদিক সেদিক হলে আপত্তি নেই কিন্তু মূল গীত যেন ঠিক রাখা হয়।’

সম্প্রতি বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের গানের গীত ও সুর সংগ্রহে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নূর জালালের পাশাপাশি এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার বাবার সঙ্গে সঙ্গ করেছেন এমন বেশ কয়েকজন বাউল শিল্পী। পাশাপাশি গানগুলোর স্বরলিপি প্রণয়নেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন দেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের গান নিয়ে কাজ করছে। উজান ধল গ্রামে বছরে দুইবার লোক উৎসব পালিত হয়। একটি ১২ সেপ্টেম্বর আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে, অন্যটি পৌষ মাসের প্রথম শুক্রবার সরলা বিবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে। সে অনুযায়ী ধারণা করতে কষ্ট হয় না আজ কালনীর পাড় ভরে উঠবে আব্দুল করিমের ভক্ত, বাউল সাধকদের পদচারণায়। উজান ধলের বাতাসে ভাসতে থাকবে করিমের গানের সুর। কান পাতলেই শোনা যাবে সেই গান।

অব্যবস্থাপনার আয়োজনেও শ্রেয়ার বাজিমাত

Shreyaবে এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে ঢাকায় গাইতে এলেন ভারতের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের লজ্জাজনক অব্যবস্থাপনা সবাইকে বিরক্ত করলেও শ্রেয়ার গানে সেটা পুষিয়ে নিয়েছেন উপস্থিতিরা।

আয়োজক কমিটি প্রথমেই কোনো সংবাদ সম্মেলন না করেই মিডিয়াকর্মীদের দাঁড়িয়ে রেখে চরম অব্যবস্থাপনার পরিচয় দেয়। তার ওপর নিমন্ত্রণপত্র পেয়েও প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী হলত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এর পরেও টিকিটের মূল্য যথাক্রমে ১০ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার, ৫ হাজার ও সাড়ে ৩ হাজার টাকা রাখা হলেও আসন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে অনেকে প্রতারণার অভিযোগও তুলেছেন বে এন্টারটেইনমেন্টের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সন্ধ্যা অবধি আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শ্রেয়া ঘোষাল লাইভ ইন ঢাকা’ শিরোনামের কনসার্টে আলোকচিত্রীদের কারও ঢোকার অনুমতি নেই। অনুষ্ঠান শুরুর আগে শ্রেয়াকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করেননি আয়োজকরা। এ ক্ষেত্রে ৩১ বছর বয়সী এই গায়িকার অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন তারা।

অনুষ্ঠান শুরুর আগ মুহূর্তে হঠাৎ জানানো হয় সংবাদমাধ্যমের আলোকচিত্রীরা ঢুকতে পারবেন। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় আয়োজকদের উদাসীনতা। শ্রেয়া যে আলোকচিত্রী ও টিভি ক্যামেরা ঢোকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেননি, একইসাথে সেটিও প্রমাণ হয়।

এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলার জন্য বে এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোনালিসা খান হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে কিন্নর কণ্ঠে শুক্রবার রাতে বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির (নবরাত্রি) হল মাতিয়ে রাখলেন শ্রেয়া ঘোষাল। প্রিয় শিল্পীকে চোখের সামনে গাইতে দেখার সুযোগ পেয়ে উপচে পড়েছিলো ভক্তদের ভিড়। সন্ধ্যা হতে না হতেই সবাই ছুটেছিলেন সেই আসরে। শ্রেয়াও হতাশ করেননি। একে একে গেয়ে শোনালেন জনপ্রিয় সব গান।

ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে ৭টা ছুঁই ছুঁই করছে, এমন সময় স্টেজে এসে শ্রেয়া বাংল‍ায় বললেন, ‘কেমন আছেন সবাই। আজ অনেকগুলো প্রিয় গান করার ইচ্ছে আছে। কোনটা ছেড়ে কোনটা করবো। যাই হোক, শুরু করি।’

শুরু করলেন তার কণ্ঠের সব হিট গান। ‘যাদু হ্যায় নাশা হ্যায়’, ‘তুহি তো মেরি দোস্ত হ্যায়’, ‘ক্যায়সে ম্যায় তু মিল গায়ে’, ‘সাঁসো মে’, ‘মারওয়া লাগা’, ‘ম্যায় তেনু’র পর থামলেন এবং শুরু করলেন ‘পিকু‘ ছবির ‘ধীরে চলনা’ শিরোনামের গানটি। গানটি করার সময় অনুপমের কথাও বলেন। তারই মিউজিকে গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। এরপর ‘অটোগ্রাফ’ ছবির ‘চলো রাস্তা’ শিরোনামের গানে কণ্ঠ দেন।

এরপর নেন একটা বিরতি। এরপর এলেন শ্রেয়ার সঙ্গে আসা ভারতীয় সংগীতশিল্পী রিকেশ। কিন্তু শ্রোতারা যেন শ্রেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই আবারো ‘শ্রেয়া শ্রেয়া’ কলরব তুলতেই স্টেজে হাজির হলেন হাস্যোজ্জ্বল মুখের এই তারকাশিল্পী। শুরু করলেন গান। ‍

টানা রাত ১০ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘ইতনি সি হাসি’, ‘ওরে জিয়া’, ‘তেরে লিয়ে’, ‘রাতভর’ ‘ইয়ে ইশক হ্যায়’, ‘ঢোল বাজে’, ‘জুবি জুবি’, ‘বালমা’, ‘উলালা’, ‘চিকনি চামেলি’সহ রুনা লায়লার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ‘সাগর কুলের নাইয়া’ ও ‘সাধের লাউ’ শিরোনামের দুটি গান করেন।

এরপর তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, ‘আমার আজকের অবস্থান আমার বাবা-মা, বড় ভাই, সারেগামা ও ভক্তদের জন্য।’

মাঝে মাঝে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে নাচও করেন এই গায়িকা। সঙ্গে ছিল ভারত থেকে আসা ছয়জনের টিম। সবশেষে ‘তুঝমে রাব দিখতা হ্যায়’, ‘তেরিও’ ও লতাজির উদ্দেশ্যে ‘আমি যে তোমার’ ও ‘হামকো মিলিহ্যায়’ গানগুলো করে স্টেজ থেকে বিদায় নেন এই শিল্পী।

নানা শ্রেণির শ্রোতা-দর্শকদের পাশাপাশি ওই আসরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের গায়িকা শাকিলা জাফর, ডা. নাশিদ কামাল, কনা, কোনাল, শামীম ওসমানসহ সঙ্গীতাঙ্গনের অনেকে এবং রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এবার আইটেম গানে বুশরা

Busra-02‘হাডসনের বন্ধুক’ ছবির থিম সংয়ে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছিলেন এই প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী শিল্পী বুশরা জেবিন। তার ইচ্ছে ছিল আইটেম গানে কণ্ঠ দেওয়ার। ইচ্ছে পূরণ হল জাফর ইকবাল গোর্কির পরিচালনায় ‘খুঁজে ফিরি তোমায়’ ছবির আইটেম গানে কণ্ঠ দেবার মধ্য দিয়ে।

বুশরা বললেন- ‘আমার বরাবরই চলচ্চিত্রে গান করার প্রতি ঝোঁক। তবে এর মধ্যে টাইটেল কিংবা আইটেম গানের প্রতি ভালোবাসাটা একটু বেশি। গানটি একটু রক প্যাটার্নের।’ গানটির কথা জাফর ইকবাল গোর্কি ও সুর নিপুণ সিরাজীর।

সামনে বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাকের পাশাপাশি অভিনয়ের কথা চলছে বলে জানালেন বুশরা। এছাড়া কিছু দিন আগে তার ফেসবুক পেইজ ভেরিফাইড হয়েছে।

বর্তমান ব্যস্ততা স্টেজ শো ও নতুন একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে। ভিডিওটি এ ঈদে উন্মুক্ত করা হবে।

আমার চিন্তাভাবনা গান নিয়ে

Atik২০০৮ সালের ‘ক্লোজআপ ওয়ান—তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসেন কণ্ঠশিল্পী আতিক। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে আশুলিয়ার একটি পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখান থেকেই অংশ নেন প্রতিযোগিতায়। জায়গা করে নেন সেরা চারে। প্রতিযোগিতা শেষে আতিক আবার ফিরে গেছেন আগের প্রতিষ্ঠানে। কাজের পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চে গান করেন এই শিল্পী। বললেন, ‘আসলে আগের পেশায় ফিরে এলেও আমার চিন্তাভাবনা গান নিয়ে। এখানে সেই সুযোগটাও পাচ্ছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা আমার অনেক বড় পাওয়া।’

এ রকম ঘাম ঝরানো শিল্পীর তালিকা লম্বা। তিন চাকার তারকা ও পোশাকশ্রমিকদের নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতা ‘গর্ব’র মাধ্যমে অনেক শ্রমজীবী শিল্পীই পা রেখেছেন গান ও অভিনয়ের ভুবনে। নিজ প্রতিভায় অনেকেই টিকে আছেন। আবার অনেকেই ফিরে গেছেন পুরোনো পেশায়।

দেশের চেয়ে বাইরে আমার ভক্ত বেশি

Promitরাস্তাঘাটে ‘টুনির মা’ গান শোনেনি—এমন মানুষ কম আছে। গানটি জনপ্রিয় হলেও শিল্পীকে অনেকেই চেনে না। কথাটি স্বীকারও করলেন ‘টুনির মা’ গেয়ে বিখ্যাত হওয়া শিল্পী প্রমিত। নরসিংদীতে মুঠোফোন যন্ত্রাংশের দোকান ছিল তাঁর। প্রতিদিন নিয়ম করে দোকানে বসতেন। বাবা করতেন কৃষিকাজ। কিন্তু বাবা ভালো গান গাইতেন। কে জানে গানের গলাটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কি না! বাবার কাছ থেকে পাওয়া গানের গলাই তাঁকে টেনে এনেছে ঢাকা অবধি। শুরুতে ঘুরেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে। অবশেষে ২০০২ সালে বের হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম শোন সংগীতা। তাঁর পঞ্চম অ্যালবামে ‘টুনির মা’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। সেই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বেরিয়েছে তাঁর ২৫টি অ্যালবাম।

প্রমিত বললেন, ‘এ দেশের চেয়ে আমি বেশি গান করি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে আমার অ্যালবামও খুব ভালো চলে। বলতে পারেন দেশের চেয়ে বাইরে আমার ভক্ত বেশি।’

ছবির ঝলক

0113471
Visit Today : 9
Visit Yesterday : 91
Total Visit : 113471
Hits Today : 38
Total Hits : 721371
Who's Online : 1

facebook