কুসুম্বা মসজিদ সংস্কারের অভাবে হুমকির মুখে

kusumba-1নওগাঁ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন গুলোর মধ্যে অন্যতম নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদটির গম্বুজ গুলি হুমকীর সম্মুখিন হয়ে পড়ায় যে কোন মূহুর্তে ধ্বসে পড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন মসজিদের মুসল্লী ও আগত দর্শনার্থীরা।

বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত মসজিদের ছবিটি নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের। ১৫৫৮ সালে জনৈক সোলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৪শ ৬০ বছরের প্রাচীন পাথরের নির্মিত মসজিদটি ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট। সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় মসজিদটি নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে, মসজিদটি শেষ বারের মত ১৯৬৪ সালে সংস্কার করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এই মসজিদটির আর কোন সংস্কার করা হয়নি। ফলে মসজিদটির ৬টি বিশাল আকারের গম্বুজ আজ হুমকির সম্মুখিন। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোনের বুরুজটিতে বৃষ্টি হলে পানি প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় সেই পানি ভিতরে থাকায় বর্ষা মৌসুমে বুরুজটি শ্যাওলায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়। এতে পাথরের রং অনেকটাই ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মসজিদটির ভিতরের আরো বেহাল অবস্থা। বিশাল বিশাল গম্বুজের খিলানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। গম্বুজের গায়ে ফাটল দেখা দিয়েছে সৃষ্টি হয়েছে ছত্রাকের। ঝরে পড়ছে খিলান ও গম্বুজের ইট-সুরকি। মসজিদের প্রাচীন ৫টি গম্বুজ আজ হুমকির সম্মুখিন। যে কোন মূহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে। ১৮৯৮ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদটির একটি গম্বুজ ধ্বসে পড়ে। ১৯৬৪ সালে সেই গম্বুজটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই গম্বুজটি এখনো অক্ষত রয়েছে।

প্রায় ৫০ বছর আগে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর কুসুম্বা মসজিদ অধিগ্রহণ করে। এতে স্থানীয় ভাবে মসজিদের সব ধরনের সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ আছে বার বার মসজিদটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিদর্শন করলেও সংস্কারে কোন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

কুসুম্বা মসজিদের মোয়াজ্জেন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দিন যতই যাচ্ছে মসজিদের গম্বুজগুলি ততই হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মসজিদে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসে। অনেকেই সমজিদের ভিতরে নামাজ আদায় করেন। ক্ষতিগ্রস্থ গম্বুজ গুলি ধ্বসে পড়লে যে কোন মূহুর্তে জান-মালসহ শেষ হয়ে যেতে পারে এই প্রাচীন নিদর্শনটি। নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রাচীন ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি এখনই জরুরী ভাবে সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী, এলাকাবাসী ও দর্শনার্থিরা।

প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরে রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলম জানান, গত অর্থ বছরেও কুসুম্বা মসজিদটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ আসেনি। এবারও অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার করা হবে।

১১ ডিসেম্বর ‘প্রজাপতি মেলা-২০১৫’

Projapoti‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ১১ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রজাপতি মেলা-২০১৫’।

মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানান, ১১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

মেলায় অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকবে— শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির হাট দর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ হবে ‘বাটারফ্লাই ব্রিডিং সেন্টার এ্যান্ড পার্ক’-এর উদ্বোধন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন প্রজাপতির সংরক্ষণ, প্রজনন ও গবেষণার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘প্রজাপতি মেলা’ আয়োজন করে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রের পাশে ‘বাটারফ্লাই ব্রিডিং সেন্টার এ্যান্ড পার্ক’ তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। পার্কটি এবারের মেলায় উদ্বোধন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে প্রতিবারের ন্যায় এবারও মেলার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’।

৫ বছর জেল, জরিমানা ১০ লাখ টাকা

Sundarban_Tigerসর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে ২৩ নভেম্বর/সোমবার আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে এ আইনে শাস্তির বিধান সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘‘আইনটির ৩৮ ধারায় উল্লেখ রয়েছে- ‘কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা জাতীয় কমিটির পূর্বানুমোদন ব্যতীত বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন কোনো জীববৈচিত্র্য বা জীব সম্পদ বা তৎবিষয়ে জ্ঞান সংগ্রহ করেন বা অধিকারে নেন বা উহাদের বাণিজ্যিক ব্যবহার-জীব সমীক্ষা বা জীব পরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচলনা করেন বা উহাদের আহরণের কার্যক্রমের সহিত যুক্ত হন; তাহলে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন’।’’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন আগেও মন্ত্রিসভায় এসেছিল (২০১৩ সালে)। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাসহ জীবন-জীবিকা এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আছে। এসব গুরুত্বের কথা বিবেচনা করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’
শফিউল আলম আরও বলেন, “সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের একটা দায়িত্ব’। তাই এক্ষেত্রে আমাদের বাধ্যবাধকতা আছে।”

‘নক্ষত্রবাড়ী’ রিসোর্টটি গাজীপুরে

Nokhkhoto House1প্রকৃতি প্রেমীদের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঢাকার খুব কাছে একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করে অভিনেতা তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত দম্পতি। গাজীপুরে ১৪ বিঘা জমির উপর নির্মাণ করেন ‘নক্ষত্রবাড়ী’ রিসোর্টটি। নক্ষত্রবাড়ী এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি প্রিয় নাম।

২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নক্ষত্রবাড়ীর । এটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, পুকুরের পানির ওপর কাঠ-বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত ১১টি কটেজ। যার বারান্দায় বসে রাতের জোছনা বা পূর্ণিমা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে।

এখানে বসে শোনা যায় ব্যাঙের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। উপভোগ করা জোনাকির টিপ টিপ বাতি জ্বলা-নেভা। পুকুরের পশ্চিম পাশের পানির ওপর গজারী গাছ দিয়ে নির্মিত এসব কটেজ। কটেজগুলোর ওপর রয়েছে ছনের ছাউনি। পুকুরের পূর্ব পাশে ব্রিটিশ আমলের দরজা-জানালা সংবলিত একটি ঘর রয়েছে। একটু পুবে রয়েছে সুইমিং পুল। রয়েছে আরও পাকা কটেজ। রয়েছে একটি কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল।

আর এই হোটেলে রয়েছে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার। এখানে বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি রয়েছে। এখানে সার্বক্ষণিক ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা সবসময় অতিথিদের সেবায় ব্যস্ত থাকেন। নক্ষত্রবাড়ী কর্তৃপক্ষ সবসময়ই অতিথিদের সব ধরনের সেবা দেওয়ার চেষ্টায় থাকে।

এখানে আগতদের বেশির ভাগই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে নক্ষত্রবাড়ী চলে আসতে পারেন।

ভাড়া: পানির ওপর কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ১০ হাজার ৭৫২ টাকা। বিল্ডিং কটেজের ভাড়া কাপলবেড ৮ হাজার ২২২ টাকা এবং টু-ইন বেড ৬ হাজার ৯৫৮ টাকা। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের রাজাবাড়ী বাজারে নামতে হবে। পরে রাজাবাড়ী বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাঙালপাড়া এলাকায় নক্ষত্রবাড়ীর অবস্থান, যা কাপাসিয়া-শ্রীপুরের সীমানা বেষ্টিত এলাকা।

ফ্রান্সের পর্যটন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

France travelফ্রান্সের প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

প্যারিসে সিরিজ হামলার পর ফের হামলার আশঙ্কায় এক আদেশে ফ্রান্সের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

আদেশে বলা হয়, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে লুভ্যর মিউজিয়াম ও আইফেল টাওয়ারসহ সব প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। দেশটির নাগরিক এবং পর্যটকদের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া নিরাপত্তাবাহিনীর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্র এই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানানো হয়। গত শুক্রবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ছয়টি স্থানে সিরিজ হামলায় ১২৯ জন নিহত হন।

এছাড়া ৩ শতাধিক মানুষ আহত হন। এর মধ্যে ৮০ জনের অবস্থা গুরুতর।

মানুষের শিকার মিঠাপানির শেষ নিদর্শন

Mitha pani1জাতি হিসেবে আমরা এ বিষয়ে গর্ব করতেই পারি! যেমন, যা পাই তাই খেয়ে শেষ করে দিতে এতটুকু কার্পণ্য করি না। তা ছাড়া খাওয়া বলতে যা বোঝায় তা তো এমনই হওয়া উচিত- হাড়হাড্ডি আর কাটা-কুটা বলে কোনো কিছু থাকতে নেই। জাফলং বলে একটা পর্যটন স্পট ছিল, এক সময় মানুষ যেখানে পাগলপারা হয়ে ছুটেছে। বর্তমানে তা কেবল পর্যটন আকর্ষণ হয়েই পড়ে নেই, বরং জাতীয় আয়ের এক চমকপ্রদ খাতে রূপান্তরিত হয়েছে। কথাটা তাহলে খুলেই বলি। বোমা মেশিন পুঁতে মাটির তল থেকে দেদার নিংড়ে তোলা হচ্ছে পাথর। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এলাকাটি আর বসবাস বা চাষাবাদের উপযোগী থাকবে না।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কথাও বলা যায়। প্রকৃতির উপহার এটি। কিন্তু সেই উপহার আমরা দু’পায়ে ঠেলেছি। এখন সেখানে গেলে জায়গাটির সাজসজ্জার সঙ্গে ঝলমলে যাত্রা-সার্কাসের মিল খুঁজে পাবেন। এটা অবশ্য কর্তৃপক্ষের কৃতিত্ব। পাঠক আপনার অজানা থাকার কথা নয়, পত্রিকায় মাঝে মাঝেই খবর আসে সেখানে বেড়াতে গিয়ে অভাগা ভ্রমণকারীর ডুবে গিয়ে মৃত্যুর খবর। এটাও কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার দারুণ স্বার্থকতা হিসেবে আপনি ভেবে দেখতে পারেন।

এদিকে বছর চারেক আগে ব্যাপক প্রচারে আসে হামহাম জলপ্রপাত। শুনলাম ইতিমধ্যেই নাকি ওই গহীন বনে চা-বিস্কুটের দোকান পৌঁছে গেছে। সেখানে বিরিয়ানীর প্যাকেটও নাকি পাওয়া যায়। সুতরাং পর্যটক খামাখা পোটলায় করে এসব খাবারদাবার টেনে নিয়ে যাবেন কোন দুঃখে? ঝরনার শুভ্র জলে শিক্ত পর্যটক টাওয়েল ঘষে কেশ শুকাতে শুকাতে এসে বসবেন সুঘ্রাণে মন মাতানো এক প্যাকেট বিরিয়ানী নিয়ে। ঝরনার সামনে বসে তৃপ্তি ভরা আবেগে বিরিয়ানী খাবেন আর ঢেঁকুর তুলে বলবেন- আহ! কি সুন্দর আমার দেশ।

Mitha paniএবার আসা যাক টাঙ্গুয়ার হাওড়ের কথায়। অতিথি পাখির অভয়াশ্রমখ্যাত এই হাওড়ে শীত মৌসুমে জড়ো হয় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উড়ে আসা অসংখ্য পাখি। সেখানে গিয়েও হানা! হাওড়ের বিশাল জলরাশি আর নিলুয়া বাতাসে নৌকা ভাসিয়ে উদাস কবি না হলে তো আমাদের প্রকৃতির প্রতি প্রেম প্রদর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যার বদৌলতে বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওড় এখন অতিথি পাখির আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

তারপর জাতির সামনে এলো বিছানাকান্দী। যেখানে গিয়ে প্রকৃতির অকৃত্রিম দানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমাদের চেখের কোণে জল জমে। বিছানা কান্দী বলে কথা। সর্বশেষ আইটেম হিসেবে সামনে এসেছে সাজেক ভ্যালী। দিন রাত সমান করে সেখানেও হামলে পড়ছে কৌতূহলী মানুষ। কৌতূহলী বলছি এ কারণে যে, এ সব স্থানে সত্যিকারের ভ্রমণপিপাসু মানুষ কতটা যান বা কয়বার যান এ নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে। দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যকর স্থানের অপার সৌন্দর্য দর্শনের আবেগে বেসামাল পর্যটক অশ্রু বিসর্জনের বদলে ভারে ভারে মলত্যাগ করছে আর পরম তৃপ্তিতে ভাবছে- এই সুযোগে অন্তত সবুজ বৃক্ষরাজির জৈবসারের ঘাটতি পূরণে শরিক হওয়া গেল।

হঠাৎ জাতির জীবনে চমক হিসেবে আবির্ভূত হলো দেশের একমাত্র মিঠাপানির বন (সোয়াম্প ফরেস্ট)- রাতারগুল। আতর-গোলাপজলে যাকে পঁচানোর পর্ব ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণের সঙ্গী ফয়সাল ভাইয়ের কথায় কান ঝালাপালা হওয়ার উপক্রম।
চল এবার রাতারগুল, কী আছে গিয়ে দেখে আসি!

হ্যাঁ, ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করে তিনি আগের রাতে জানালেন, যাত্রার সময় আগামীকাল সকাল সাড়ে ছয়টা। ২০১৩ সালের অক্টোবর, সময় মত বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে দাঁড়াতেই প্যাঁ প্যাঁ শব্দে মাইকে ঘোষণা শোনা গেল, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস এক নং প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াবে। অমনি যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। যথারীতি যুদ্ধে জয়ী হলাম। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার পর আবিষ্কার করলাম, পথ আর ফুরাতে চায় না। ওদিকে ফটোগ্রাফার বন্ধু আহমেদ সোহেল ভাই আমাদের প্রতীক্ষায় আছেন। ট্রেন থেকে নেমে ছুটলাম মহানগরের তালতলার দিকে। থাকবার বন্দোবস্ত হয়েছে সেখানকার হিলটাউন হোটেলে। হালকা নাস্তার পর দ্বিতীয় ছুট সোহেল ভায়ের ঠিকানায়। সেখানেই অবিষ্কৃত হলেন এক তেজপাতা মন্ত্রী। কাঁচ ঘেরা ঘরটায় তিনি যে স্কেলে কথা বলছিলেন যেন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছি আর কানের ঠিক কাছাকাছি লঞ্চের ভেঁপু বাজছে। কথা শুনতে শুনতে ভাবলাম, ঢাকায় ফিরে এবার কানের ডাক্তার দেখানো ছাড়া গতি নেই। একপর্যায়ে আলোচনার বিষয় হিসেবে চলে আসে সিলেটের সম্ভাবনার কথা। তেল, গ্যাস,পাথর, সুন্দর প্রকৃতি ইত্যাদি থাকতে ঘুরেফিরে তার কাছে তেজপাতার গুরুত্বটাই সর্বাধিক হয়ে উঠল। প্রসঙ্গ পরিবর্তনে সাধ্য কার! অবশেষে হাল ছেড়ে শেষ অবধি তেজপাতার সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা চলতে লাগল।

সারা রাত মুষলধারার বৃষ্টি হয়েছে। রাতারগুল যেতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে হবে মহানগরের আম্বরখানা গিয়ে। সকাল সকাল নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে অটোরিকশায় আরোহণের পর শুরু হলো রাতের মত একই ধারায় বৃষ্টি। তার মধ্যেই চালক সাহেব তার সমস্ত কলাকৌশল খাটিয়ে হাকিয়ে চললেন বেদম গতিতে। পথের দু’পাশের উঁচুনিচু চা বাগানে সবুজের যৌবন, বৃষ্টিতে ভিজে তা যেন অধিক সবুজ হয়ে উঠেছে। আঁকাবাঁকা পথে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় গিয়ে নামিয়ে দিলেন পিচ ঢালা পথের শেষপ্রান্তে, যেখান থেকে বাকি পথ পায়ে হাঁটা।

অটোরিকশা থেকে নেমেই সকলের চোখ তো বিস্ময়ে গোল হয়ে গেল। আকাশে মেঘ থাকার দরুণ বহুদূর ওপারের মেঘালয়ের পর্বতশ্রেণী স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, পর্বতের কালচে সবুজ পেটে ভেসে উঠেছে একটি সাদা রেখা। চওড়াতেও কম নয়। যা আসলে একটি জলপ্রপাত। দূর থেকেই অনুমান করা যায় ওর উচ্চতা কমবেশি চারশ ফুট হয়ে থাকবে। উত্তেজনায় সোহেল ভাই তার ঢাউস লেন্সের ক্যামেরায় দৃশ্যটা ধরার ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন। পথের শেষ প্রান্তে ’চ্যাঙ্গের খাল’। খালের ওপাড়েই সিলেট জেলার আরেক উপজেলা গোয়াইনঘাট। এই চ্যাঙ্গের খালই গিয়ে মিশেছে সারিগাঙ্গে। খালের এপাড়ে গড়ে উঠেছে কয়েকটা দোকান। আমাদেরকে দেখা মাত্রই হাকডাক শুরু হয়ে গেল-আসেন বসেন, আগে চা খান তারপর সুন্দরবন যাওয়ার সব বন্দোবস্ত করে দেব। স্থানীয়দের নিকট রাতারগুল এই নামেই পরিচিত।

ঠিক আছে, যেমনে তারা বলে তেমনই হবে। পরিবেশিত হলো অ্যাশ কালারের দুধ চা। চায়ের রাজধানী হলে কি হবে সিলেটে যার দু’একবার যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাকে চোখ কান বেঁধে সিলেট নিয়ে চা-পান করতে দিলে সে অনায়াসেই বলে দিতে পারবে কোথায় চা-পান করছে।

সময়টা অক্টোবরের শেষের দিকে, তাই ধরে নিয়েছিলাম, খটখটে শুকনো রাতারগুল পায়ে হেঁটেই দেখতে হবে। কিন্তু না, প্রবল বর্ষণে বন একেবারে ভেসে গেছে। পর্যটক শূন্য পরিবেশ, সুতরাং নৌকা ভাড়া করতে তেমন ঝামেলা পোহাতে হলো না। উত্তাল খাল ধরে এগিয়ে ওপাড়েই সরু খাড়ি। আর সেই খাড়ি ধরে প্রবেশ করি বনের ভেতর। মুর্তা, বেত আর হিজল, করম গাছের ছায়ায় ঢাকা রাতারগুল। আয়তন ৫৮০ একর। জানা যায় অতীতে অত্র এলাকার সমস্ত হাওড়জুড়েই নাকি এমন অসংখ্য বন ছিল। জনসংখ্যার চাপে যা এসে ঠেকেছে মাত্র ৫৮০ একরে। মিঠাপানির বনের সর্বশেষ নিদর্শন রাতারগুল কত দিন টিকে থাকে তা এখন দেখার বিষয়।

তবে আশার বিষয় হলো, মিঠাপানির একমাত্র এই বনটির প্রতি যে সকলের দরদ আছে তা দেশবাসী পত্র-পত্রিকায় দেখেছে। কিছু দিন পূর্বে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বনের মধ্যে দালান-কোঠা ও রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সকলের প্রতিবাদে তা বন্ধ হয়েছিল। আর তখনই প্রমাণিত হয়েছে আমরা কতটা প্রকৃতিপ্রেমী। প্রতিবাদের ঝড় উঠল। প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে যারা হাল ধরার দায়িত্ব নেন তেমন মাপের লোককেও দলবল নিয়ে সেখানে গিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে ও প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখেছি।

যাই হোক, মাঝি ধীরে ধীরে নৌকা চালালেন। ইচ্ছা প্রকাশ করায় দুই তিন জায়গায় হাঁটার জন্য নামারও সুযোগ করে দিলেন। অপেক্ষাকৃত উঁচু আইল ধরে বেশ খানিকটা হাঁটার অভিজ্ঞতা হলো। ভরা বর্ষায় বোধহয় সে সুযোগ থাকে না। বৃষ্টি ভেজা এঁটেল মাটি, পা পিছলে একবার আছাড় খেলে রাতারগুলের জলে গোসল অবধারিত জেনে অতি সাবধানে হাটতে হলো। ঝকঝকে সবুজ পাতা, অনুচ্চ বৃক্ষের ডালগুলো হেলে পরে রয়েছে অনেক নিচ দিয়ে। পানির মাঝে গলা ডুবিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে ঝুরি নামা শেকড় গুচ্ছ। সে এক অপরূপ দৃশ্য। রাতারগুলে অনেক সাপ রয়েছে শুনলেও আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো মাত্র দুইটি, তাও আবার ঢোরা। তবে বানরের সংখ্যা বেশ, মানুষের অস্তিত্ব টের পেলেই দেয় ছুট। বিভিন্ন প্রজাতীর পাখির সংখ্যা যে কম নয়, তা মাঝেমধ্যেই ডালে ডালে তাদের বাসা দেখে বোঝা যায়। ভেজা প্রকৃতির টাটকা সবুজ পেয়ে সোহেল ভাই মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি তুলতে থাকলেন। সেই সুযোগে ফয়সাল ভায়ের সাড়ে সাত মেগাপিগজেলের ডিজিটাল দিয়ে আমরাও তুলে নিলাম টপাটপ কয়েকটা। এত সুন্দর একটি বন চুপটি করে লুকিয়ে ছিল এতদিন। কে ওকে বের করে আনলো, যার কারণে আজ মিঠাপানির শেষ নিদর্শনটিকে প্রতিনিয়ত আক্রমণে পড়তে হচ্ছে!

ভিসা ছাড়াই ভ্রমন করা যায় যে দেশেগুলো

visaবিশ্বে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রকৃতির অকৃত্রিম দান আপনার চোখ জুড়োবেই। এবং সুখের খবরটি হল, এই সব দেশগুলিতে বেড়াতে যেতে সাধারণভাবে ভিসার প্রয়োজন হয় না। বিদেশে যেতে ভিসা জটিলতা যে এক বড় সমস্যা, এটা কে না জানে। যারা ভিসা প্রার্থী হন কেবল তারাই জানেন এই ভিসা বিড়ম্বনার জ্বালা। ভিসা পেতে পেতেই সময় লেগে যায় অনেক দিন, প্রায় সেটা কয়েক মাসও হয়ে যেতে পারে। প্রথমে ভিসার জন্য অ্যাপলাই করতে হয়। তারপর সেখান থেকে ডাক আসার পর আবার ইন্টারভিউ। এত কিছু করার পর প্রায় নাজেহাল অবস্থা হওয়ার পর হাতে মেলে ভিসা। তখন ঘোরার প্ল্যান করতে হয়।

দেশের বাইরে যারা কেবল ঘোরার জন্যই ছুটে যান, তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, পৃথিবীর এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে আপনি ঘুরতে যেতে চাইলে কোনও ভিসার দরকার পড়বে না, কিংবা ওই দেশের এয়ারপোর্টে নেমে তখন আপনি সঙ্গে সঙ্গেই হাতে পেয়ে যাবেন আপনার ভিসাটি। এর জন্য আগে থেকে অ্যাপলাই করতে হবে না।

যে সব দেশে যেতে ভিসার দরকার নেই, দেশগুলো হচ্ছে :
ভূটান, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ফিজি, গ্রানাডা, হাইতি, জামাইকা, মরিশাস,মাইক্রোনেশিয়া, নেপাল, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট এন্ড দ্য গ্রেনাদিনেস, ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো, ভ্যানুয়াতু, হং কং, দক্ষিণ কোরিয়া, মেসিডোনিয়া, টার্কিস এন্ড কাইকোস আইল্যান্ড, মন্টসেরাত, শালবার্ড।

যে সব দেশে ই-ভিসা লাগে :
জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, সাও তামি এন্ড প্রিনসিপি, রাওয়ান্ডা, মায়ানমার, মলদোভা, কেনিয়া, জর্জিয়া, গ্যাবন, কটে দিলভোরি, বাহরিন।

যে সব দেশে গেলে এয়ার পোর্ট থেকে ভিসা পাওয়া যাবে :
বলিভিয়া, কম্বোডিয়া, ক্যাপে ভারদে, কমোরস, জিবুটি, ডোমিনিয়া, ইথিওপিয়া, গুইনিয়া-বিসাউ, গুয়ানা, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, লাওস, মাদাগাসকার, মালডিভস, মৌরিতানিয়া, পালাউ, সেন্ট লুসিয়া, সেনেগাল, সেচেলিস, সোমালিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, টিমোর লেসতে, তুভালু, উগান্ডা, আন্টার্কটিকা

আর পারমিট লাগে যে সব দেশের, তা হচ্ছে : শ্রীলঙ্কা ও সামোয়া।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ষাট গম্বুজ মসজিদ

Sixty-Dome-Mosqueবাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণকরা হয়েছিলো সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না।

ধারণা করা হয় তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।

এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ফুট পুরু।

ইতিহাস সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়েতোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়।

তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণ শৈলী এতে সুস্পষ্ট। বহির্ভাগ মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড ও চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা, ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিলো। এদের একটির নাম রওশন কোঠা, অপরটির নাম আন্ধার কোঠা। মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে। এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো, শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই ৬০টি স্তম্ভ ও চারপাশেরদেয়ালের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।

মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ (৬০ গম্বুজ) মসজিদ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয়, গম্বুজ, ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি। পূর্ব দেয়ালের মাঝের দরজা ও পশ্চিমদেয়ালের মাঝের মিহরাবের মধ্যবর্তি সারিতে যে সাতটি গম্বুজ সেগুলো দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের চৌচালা ঘরের চালের মত।বাকি ৭০টি গম্বুজ আধা গোলাকার। অভ্যন্তরভাগ মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব আছে। মাঝের মিহরাবটি আকারে বড় এবং কারুকার্যমন্ডিত। এ মিহরাবের দক্ষিণে ৫টি ও উত্তরে ৪টি মিহরাব আছে। শুধু মাঝের মিহরাবের ঠিক পরেরজায়গাটিতে উত্তর পাশে যেখানে ১টি মিহরাব থাকার কথা সেখানে আছে ১টি ছোট দরজা।

কারো কারো মতে, খান-ই-জাহান এই মসজিদটিকে নামাযের কাজ ছাড়াও দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন,আর এই দরজাটি ছিলো দরবার ঘরের প্রবেশ পথ।আবার কেউ কেউ বলেন, মসজিদটি মাদ্রাসা হিসেবেও ব্যবহৃত হত।

সৌন্দর্য পিপাষুদের পদচারণায় মুখরিত মীরসরাইয়ের প্রকৃতি

Mirsarai Mohamaiaসৌন্দর্য পিপাষু দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বিনোদন স্পটগুলো। এবার দর্শনার্থীদের পাশাপাশি স্বয়ং মিরসরাই থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘুরেছেন খৈয়াছরা ঝর্ণা এবং মহামায়ার বিভিন্ন অংশ।

নীল, সবুজ আর রাশি রাশি শারদীয় মেঘমালা ও কাশবনের সারি সারি মোহনীয়তা এবার মহামায়াকে দিয়েছে ভিন্ন রূপের সৌন্দর্য। আলো-আঁধারির খেলা নিয়ে শরতের অপরূপ এমনতর অধিক সেজেছে মুহুরীর প্রকল্প এলাকাটিও। মুহুরীর প্রকৃতির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত স্মৃতিরা যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। এসব স্মৃতি আটকে রাখার মত হাজার বছর ধরে।

খৈয়াছড়া ঝর্ণায় আকৃষ্ট হবে যে কেউ, যেখানে প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝম ঝম শব্দে বয়ে চলা ঝর্ণাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে ফেলে সজীব করে তার নাম খৈয়াছরা ঝর্ণা। পাহাড়ের সবুজ রং আর ঝর্ণার স্বচ্ছ জল মিলেমিশে একাকার হয়েছে মিরসরাইয়ের প্রাকৃতিক জলপ্রপাত খৈয়াছরা ঝর্ণায়। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এ ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। যারা একবার খৈয়াছরা ঝর্ণা দেখেছেন তাদের মনে একটিই প্রশ্ন উঁকি দেয় বার বার ‘দেশে এমন সৌন্দর্যের ঝর্ণা দ্বিতীয়টি আর আছে কিনা’।

এমনই এক নান্দনিক ঝর্ণা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে যা খৈয়াছরা ঝর্ণা নামেই পরিচিত। খৈয়াছরা এলাকার পাহাড়ে অবস্থান বলে এর নামকরণ করা হয়েছে খৈয়াছরা ঝর্ণা। প্রকৃতি ও প্রেমের মিশেলে তৈরি এই চিত্রকল্পটি বাস্তব এক পটভূমি। এই গল্পের নাম ভূমিকায় আছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত খৈয়াছরা জলপ্রপাত।

সরকারের পর্যটন বিভাগের দৃষ্টির বাহিরে সর্বত্র অপ্রকাশিত এই ঝর্ণা এখন পর্যটকদের টানছে মায়ামোহে। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এ ছবি দেখে মুগ্ধ ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। যারা একবার খৈয়াছরা ঝর্ণা দেখেছেন তাদের মনে একটিই প্রশ্ন উঁকি দেয় বার বার ‘দেশে এমন সৌন্দর্যের ঝর্ণা দ্বিতীয়টি আর আছে কিনা।’ এখানে আসা অনেক পর্যটকের মতে, ‘দেশের মাধবকুন্ড ও শুভলং ঝর্ণার থেকে অনেক বড় আর বৈচিত্র্যময় এই ঝর্ণা।’ তাদের কথায়, ‘শুধুমাত্র সরকারের অবহেলায় এটি সর্বত্র অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি অনেক দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ও অনেক মিডিয়াকর্মী এই খৈয়াছরা ঝর্ণা দেখতে এবং ছবি তুলে নিতে আসছে।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূতি সাগরকন্যা কুয়াকাটা

kuakataঅপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূতি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই মৌসুমি পাখির কলরবে মুখোরিত সমুদ্রতট। কুয়াকাটায় কয়েকদিন থেকে প্রাণভরে একসঙ্গে অনেক কিছু উপভোগ করতে পারেন। সৈকতের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ে দিগন্তজোড়া আকাশ আর সমুদ্রের রাশি রাশি নীল জল। নীল জলের ঢেউ সাদা ফেনা তুলে ভেঙে পড়ছে সৈকতে। এমন মনকাড়া অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। দেখা যাবে সমুদ্রের পেট চিরে গনগনে লাল সূর্যোদয় এবং দিন শেষে সমুদ্রের বক্ষে হারিয়ে যাওয়ার অসাধারণ দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতের পাশে সুন্দর ঝাউবন দেখতে পাবেন। ঝাউগাছের অপরূপ দৃশ্য, স্নিগ্ধ হাওয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীর-মনে মেখে নিতে পারেন। নারকেল বাগানও দেখার মতো, সঙ্গে পিকনিক স্পট।
কুয়াকাটা সৈকতের পূর্বে গঙ্গামতির খাল পাড়ে বনাঞ্চল দেখতে পাবেন। বিভিন্ন গাছপালা ছাড়াও রয়েছে বনমোরগ, বানর ও নানারকম পাখি। গাছগুলো বেশ বড় বড়, চরের হাজার হাজার পাখি এলাকাকে মোহনীয় করেছে। সমুদ্রস্নান ভ্রমণকে আনন্দমুখর করে তোলে। বিশাল বিশাল ঢেউ বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ে। চাঁদনি রাতে বেলাভূমিতে বন্ধু বা আপনজন মিলে আড্ডায় অভাবনীয় আনন্দ পাবেন। মুগ্ধতায় কয়েকদিন কাটাতে পারেন কুয়াকাটায়। বেড়িবাঁধ দিয়ে একটু দূরে মোটরসাইকেলে চলে যান সমুদ্র ও নদীর মোহনায়। যার একপাশে নদী অন্যপাশে সমুদ্র ধারা বইছে, হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে অতি ভোরে সূর্য ওঠা অবলোকন করুন, পানি থেকে কীভাবে সূর্য উঠছে এ দৃশ্য একবার দেখলে সারাজীবন মনে থাকবে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্বে গজমতি ও গঙ্গামতির জঙ্গল ছাড়িয়ে সামনে গেলে দেখতে পারেন লাল কাঁকড়ার দ্বীপ। হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখা যায় ছোট্ট এ দ্বীপে। সাধারণত শীতকালে সমুদ্র শান্ত থাকে, সে সময় স্পিডবোটে যেতে পারেন। পাবেন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন কিছু দেখার অফুরান আনন্দ।কুয়াকাটা নামকরণের উৎস প্রাচীন কুয়াটি এখনও রয়েছে। আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা রাজা মংয়ের নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং পরে কুয়াকাটায় বসতি গড়েন। তারা মিঠা পানির জন্য কুয়া খনন এবং নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টি গড়ে তুলেছেন। সৈকতের কাছেই রাখাইন জনগোষ্ঠীর বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে রয়েছে কুয়াটি। প্রাচীন এ মন্দিরে রয়েছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের অষ্টধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি। রাখাইন পল্লীতে দেখতে পাবেন নারীরা কাপড় বুনছে। এদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। রাখাইনদের গৃহ, তাদের আচার-আচরণ দেখতে পাবেন। পাশেই রাখাইন নারীরা দোকানে পসরা সাজিয়েছে, শৌখিন ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদি উপহার হিসেবে কিনে আনতে পারেন প্রিয়জনদের জন্য।সাগর পাড়েই দেখবেন শত বছরের পুরনো নৌকা। সম্প্রতি মাটি খনন করে উত্তোলন করা হয় ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় ৯০ টন ওজনের নৌকাটি। জিরো পয়েন্টের দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইকো পার্ক। কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতায় এর আয়তন ৭০০ একর। নারকেল, ঝাউ, আমলকী, বকুল, অর্জুন, জারুল, হিজল, চালতা, পেয়ারা, জাম, হরীতকী, নিম, করমচা, মহুয়া, কামিনী, শেফালি ইত্যাদি গাছে ভরা পার্কটি। কুয়াকাটার ৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বৃহৎ মাছ ব্যবসা কেন্দ্র আলীপুর। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। আলীপুর বন্দর ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ এবং মাছের বিশাল আয়োজন ও কারবার। সমুদ্রসৈকত থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মিশ্রিপাড়ায় বৌদ্ধ মন্দির দেখতে পারেন। এখানে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। অনতিদূরে আমখোলা পাড়ার রাখাইন বসতি দেখলে ভালো লাগবে। কলাপাড়া-খেপুপাড়া সড়কের পাখিমারা বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর, যেখানে পানি ও নদীর নানা উপকরণ সাজানো রয়েছে। দেশের বিভিন্ন নদীর পানি ও ছবি, নদীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের তথ্য রয়েছে। নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে নির্মিত জাদুঘরে হারিয়ে যাওয়া নদী, বর্তমান নদী ও নদীর ভবিষ্যৎ কী হবে তা জানা যায়।কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমে ইঞ্জিনবোটে নদী পার হলেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যা ফাতরার বন নামেও পরিচিত। জায়গাটা সুন্দরবনের মতো হলেও হিংস্র বন্যপ্রাণী নেই। এতে বনমোরগ, বানর, বন্য শুকর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করে ঘুরে ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। সৈকতের পশ্চিমে গড়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। এখানে গেলে দেখা যাবে জেলেদের মাছ শুকানোর নানা কৌশল। কম দামে উন্নতমানের শুঁটকি কিনে আনতে পারেন নিজের, পরিবারের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য।ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। সময় লাগে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা।

ঢাকার ঐতিহাসিক দুর্গ লালবাগ কেল্লা

Lalbager kella-03লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন। উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, যিনি তাজমহল তৈরির জন্যে বিশ্ব মহলে ব্যাপক সমাদৃত।

এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় সেখানকার মারাঠা বিদ্রোহ দমন করবার জন্যে। সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

তবে শায়েস্তা খাঁ পুনরায় কাজ শুরু করার প্রায় চার বছরের মাথায় দুর্গের নির্মাণ কাজ আবার বন্ধ হয়ে যায়, এরপর দুর্গটি নির্মাণের কাজ আর শুরু করা হয়নি। নবাব শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবি মারা যাওয়ার কারণেই মূলত শায়েস্তা খাঁ লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। পরী বিবির মৃত্যুর পরে সবার মধ্যে দুর্গটি সম্পর্কে বিদ্রূপ ধারণা জন্ম নেয়, সবাই দুর্গটিকে অপয়া ভাবতে শুরু করে দেয়।

পরী বিবির মৃত্যুর পর তাকে লালবাগ দুর্গের মাঝেই সমাহিত করা হয়, আর এরপর থেকে একে পরী বিবির সমাধি নামে আখ্যায়িত করা হয়। পরী বিবির সমাধির যে গম্বুজটি আছে তা একসময় স্বর্ণখোচিত ছিল, কিন্তু এখন আর তেমনটি নেই, তামার পাত দিয়ে পুরো গম্বুজটিকে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরীবিবির সমাধিঃ
এই ভবনটি মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা পরীবিবির সমাধি নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এই একটি মাত্র ইমারতে মার্বেল পাথর, কষ্টি পাথর ও বিভিন্ন রং এর ফুল-পাতা সুশোভিত চাকচিক্যময় টালির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ নয়টি কক্ষ অলংকৃত করা হয়েছে। কক্ষগুলির ছাদ কষ্টি পাথরে তৈরি। মূল সমাধি সৌধের কেন্দ্রীয় কক্ষের উপরের কৃত্রিম গম্বুজটি তামার পাত দিয়ে আচ্ছাদিত। ২০.২ মিটার বর্গাকৃতির এই সমাধিটি ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দের পুর্বে নির্মিত। তবে এখানে পরীবিবির মরদেহ বর্তমানে নেই বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

দেখার মত যা যা রয়েছেঃ

লালবাগ কেল্লার তিনটি বিশাল দরজার মধ্যে যে দরজাটি বর্তমানে জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া সেই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা চোখে পড়ে পরী বিবির সমাধি। সচরাচর টেলিভিশনে, খবরের কাগজে, ম্যাগাজিনে লালবাগ কেল্লার যে ছবিটি দেখা যায় সেটা মূলতঃ পরী বিবির সমাধির ছবি।

কেল্লার চত্বরে তিনটি স্থাপনা রয়েছে-

১। কেন্দ্রস্থলের দরবার হল ও হাম্মাম খানা
২। পরীবিবির সমাধি
৩। উত্তর পশ্চিমাংশের শাহী মসজিদ

কেল্লাতে একটি মসজিদ আছে, আজম শাহ দিল্লি চলে যাওয়ার আগেই তিনি এই মসজিদটি তৈরি করে গিয়েছিলেন। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি যে কারো দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। মসজিদটিতে জামায়াতে নামায আদায় করা হয়। ঢাকায় এতো পুরনো মসজিদ খুব কমই আছে।

লালবাগ কেল্লাতে এখানে ওখানে বেশ কয়েকটি ফোয়ারার দেখা মিলবে, যা শুধুমাত্র কোনো বিশেষ দিনে চালু থাকে । কেল্লাতে সুরঙ্গ পথ ও আছে, লোক মুখে শোনা যায় যে আগে নাকি সুরঙ্গ পথগুলোতে যাওয়া যেতো, তবে এখন আর যাওয়া যায়না। উল্লেখ্য সুরঙ্গ পথ এ যাওয়ার কথাটি নিতান্তই শোনা কথা, এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
লালবাগ কেল্লায় সর্বসাধারণের দেখার জন্যে একটি জাদুঘর রয়েছে, যা পূর্বে নবাব শায়েস্তা খাঁ এর বাসভবন ছিল আর এখান থেকেই তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। জাদুঘরটিতে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। মুঘল আমলের বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির দেখা মিলবে সেখানে, যেগুলো দেখলে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। শায়েস্তা খাঁ এর ব্যবহার্য নানান জিনিসপত্র সেখানে সযত্নে রয়েছে। তাছাড়া তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, পোশাক, সেসময়কার প্রচলিত মুদ্রা ইত্যাদিও রয়েছে।

ওমান এয়ারের ঢাকা-মাস্কাট নতুন ফ্লাইট চালু

Omanহযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় নতুন ফ্লাইট চালু করলো ওমান সালতানাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ার। ২৫ অক্টোবর নতুন এই সেবার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

প্রাথমিক অবস্থায় সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইট রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবারে চলাচল করবে এবং আগামী ১ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে সোম ও বুধবারেও চলাচল করবে।

ফ্লাইট ডব্লিউ ওয়াই-৩১৭ ঢাকা শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে শুক্র ও রবিবার বিকেল ০৪.৩০ মিনিটে এসে পৌঁছুবে এবং সন্ধ্যা ০৬.০০ টায় ছেড়ে যাবে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ফ্লাইট ডব্লিউ ওয়াই-৩১৫ রাত ০৮.০৫ মিনিটে এসে পৌঁছবে এবং ০৯.২০ মিনিটে ছেড়ে যাবে, যা ধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, ওমান এয়ার বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ওমানের রাজধানী মাসকটের মধ্যে সপ্তাহে ৭টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নতুন এই রুটের যাত্রীদের জন্য থাকছে ওমান এয়ারের পুরস্কারজয়ী এয়ার বাস ৩৩০-৩০০, যার আসন সংখ্যা ইকোনোমি ক্লাসে ২০৪ টি ও বিজনেস ক্লাসে ২৬টি।

ওমান এয়ারের চিফ অপারেটিং অফিসার আব্দুরহমান আল বুসাইদি বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় ফ্লাইট চালু করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাসকট ও ঢাকার মধ্যকার নতুন এই ফ্লাইটের ফলে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে বাণিজ্য, জনশক্তি রপ্তানি, পর্যটন ও সাংস্কৃতির আদান-প্রদানের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী ওমানে কর্মরত, নতুন এই বিমান সেবা নিজ দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদেরকে আরো সুবিধা প্রদান করবে। আমরা নিশ্চিত যে, ওমানে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিশেষ করে ঢাকার অধিবাসীরা নতুন এই সেবাকে আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করবেন।’

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমান রাষ্ট্রদূত ওমর বিন মোহাম্মদ বিন রামাধান আল বালুসি এবং ওমান এয়ার-এরকান্ট্রি ম্যানেজার খন্দকার এ. কবির।

ছবির ঝলক

0117517
Visit Today : 35
Visit Yesterday : 70
Total Visit : 117517
Hits Today : 62
Total Hits : 736298
Who's Online : 1

facebook