হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন

Humayun Ahmedআজ শুক্রবার নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন। সৃষ্টির সুবাদে অমরত্ব পাওয়া হুমায়ূন আহমেদ চিরঞ্জীব। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজলোর কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন।

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালি জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরর্বতী শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হিসেবে তাকে বিবেচেনা করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয়, বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তিনি পথকিৃৎ। নাটক ও চলচ্চত্রি পরিচালক হিসেবেও সমাদৃত।

ছোট বেলায় হুমায়ূন আহমেদেরে নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তার বাবা নিজের নাম ফয়জুর রহমানরে সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রাখনে শামসুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ।

তার বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন হুমায়ূন আহমদ। স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন এই জনপ্রিয় লেখক। হুমায়ূন বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে সব গ্রুপের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে ঢাকা কলেজে র্ভতি হন এবং সেখান থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করনে তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলমিার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় একসময় অধ্যাপনা ছেড়ে দেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের শুরুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দূতাবাসে সিনিয়ার স্পেশাল অ্যাডভাইজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ছাত্র জীবনে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলরে সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২-এ কবি সাহিত্যিক আহমেদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স থেকে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাঙলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যমোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। এ পর্যন্ত (২০১১) তিনি দুই শতাধকি গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস প্রকাশনা করেছেন। তার রচনার প্রধান কয়কেটি বৈশিষ্টের মধ্যে অন্যতম হলো ‘গল্প-সমৃদ্ধি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তবে অলৌককিভাবে সে যাত্রায় বেঁচে যান এই গুণী লেখক।

২০১১ সালে সেপেম্বর মাসে তার দেহে আন্ত্রীয় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে টিউমার বাইরে ছড়িয়ে না-পড়ায় সহজে তার চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে সম্ভব হলেও অল্প সময়রে মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে র্দীঘ নয়মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের হসপিটালে বাংলা সাহত্যিরে এই প্রবাদপুরু মারা যান। তাকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হয়।

মৌসুমীর জন্মদিন আজ

Moushumi-BNCআজ জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে মৌসুমীর অভিষেক। এই সিনেমায় সালমান শাহর সঙ্গে জুটি হন এ অভিনেত্রী। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম ছবিতেই জানিয়ে দেন চলচ্চিত্রে রাজত্ব করার জন্যই এসেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢালিউডে ছড়াচ্ছেন মেধার দ্যুতি।

জন্মদিন উপলক্ষে তেমন কোনো আয়োজন করছেন না তিনি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আর প্রিয় মানুষদের হারানোর শূন্যতা নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করতে চান না তিনি।

মৌসুমীর পুরো নাম আরিফা পারভীন মৌসুমী। ১৯৭৩ সালে ৩ নভেম্বর খুলনায় তার জন্ম। বাবা নাজমুজ্জামান মনি ও মা শামীমা আখতার জামান। মৌসুমী ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ফারদিন এহসান স্বাধীন (ছেলে) এবং ফাইনা (মেয়ে) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

সোমবার রাত ১২টার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৌসুমী ভেসে যাচ্ছেন ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায়। ফোনেও আসছে একের পর এক ক্ষুদেবার্তা। তবে তার কাছে স্পেশাল ‌‌হলো নিজের স্বামী ওমর সানী ও দুই সন্তান ফাইজা-ফারদিনের কাছে থেকে পাওয়া শুভেচ্ছা।

রাত ১২টায় তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী ও তাদের সন্তান ফারদিন ও ফাইজা। ওমর সানী বলেন, মৌসুমী চাচ্ছে তার জন্মদিনটি এবার নীরবেই কাটুক। তার কথা প্রখ্যাত সাংবাদিক আওলাদ ভাইয়ের, অভিনেতা আদিল ভাইয়ের মৃত্যু এবং দিতি আপা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে। এ অবস্থায় জন্মদিন পালন করতে চাচ্ছি না।মৌসুমী ছোটবেলা থেকেই একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন, যার উপর ভিত্তি করে তিনি ১৯৯০ সালে টেলিভিশনের বাণিজ্যিকধারার বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হন।

অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও সাফল্য দেখিয়েছেন মৌসুমী। ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ মৌসুমী পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। তারপর তিনি ২০০৬ সালে মেহের নিগার চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তিনি নির্মাণ করছেন ‘শূন্য হৃদয়’ নামের একটি চলচ্চিত্র। পাশাপাশি ‘ভালোবাসবোই তো’ নামের একটি চলচ্চিত্রের পরিচালনাও করছেন তিনি। এই ছবিটি ছিলো প্রয়াত পরিচালক বেলাল আহমেদের নির্মাণাধীন শেষ ছবি। তার মৃত্যুর পর ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজটিও করতে হচ্ছে মৌসুমীকে।শোবিজের বাইরে মৌসুমী একজন আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ মা। পাশাপাশি তিনি নিজেকে জড়িয়েছেন নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। ‘মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করেন তিনি। বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিসেফ অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব পালন করছেন মৌসুমী।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্রে নন্দিত চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিনে দৈনিক জাতির কণ্ঠ ও বিএনএস টাইমস ২৪.কম পরিবারের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিন্দন ।

নায়লা নাঈমের সম্পর্কে ১০টি তথ্য

nailaতন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘রান আউট’ চলচ্চিত্র সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। এই আলোচিত মডেল এখন ছবির প্রমোশনে হলে ঘুরছেন ,কারণ এই ছবির আইটেম নাচে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাহলে চলুন জেনে নিন তাঁর সম্পর্কে ১০টি তথ্য।

১. মিডিয়ায় আসার আগে নায়লা মেকআপ দূরে থাক, ঠোঁটে লিপস্টিক পর্যন্ত দিতেন না।

২. ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি নায়লা নাঈম ফেসবুকে ফ্যান পেইজ ওপেন করে প্রথম পোস্টে নিজের একটি ছবি আপলোডের ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই নায়লা হিট !

৩. প্রথম দিনই পেইজের মেম্বার দাঁড়ায় ২৩ হাজার।

৪. নায়লা নাঈমের প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল গ্রামীণফোনের।

৫. ২০১৪ সালের গুগল সার্চে শীর্ষ বাংলাদেশি তারকা নির্বাচিত হন নায়লা।

৬. তিনি পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক।

৭. নায়লা নাঈম একজন ‘প্রাণীপ্রেমী। নায়লার আশপাশে প্রায় ৪০টি কুকুর রয়েছে। অসুস্থ বিড়ালকে সুস্থ করতে গিয়ে তিনি নিজেই দুর্ঘটনার স্বীকার হন।

৮. ফ্রান্সভিত্তিক সুগন্ধি কম্পানি আরএনআরের ‘সডিউচ’ নামের একটি সুগন্ধির মডেল হয়েছেন।

৯. সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘রান আউট’ এ আইটেম নাচে অংশ নিয়েই ছবির পুরো আলোচনা তার দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছেন।

১০. পেইজ ভেরিফায়েডের জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হয়; কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে পেইজ ভেরিফায়েড করে দেয়।

বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সনজীদা খাতুনের জন্মদিন

sanjidaবিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী ড. সনজীদা খাতুন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। একাধারে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সংগীতজ্ঞ এবং শিক্ষক।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ১৯৩৩ সালের আজকের দিনে জন্ম গ্রহণ করেন সনজীদা খাতুন। আজ ৮২ বছরে পা রেখেছেন এ সংগীতজ্ঞ। রাইজিংবিডির পক্ষ থেকে এ গুণী সংগীতশিল্পীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছ।

সনজীদা খাতুনের পিতার নাম ড. কাজী মোতাহার হোসেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত ব্যক্তি ও জাতীয় অধ্যাপক। সনজীদা খাতুন রবীন্দ্রসংগীত বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুল হকের স্ত্রী।

১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন সনজীদা। ১৯৫৫ সালে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

১৯৫৩ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার এবং ১৯৬৪ থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সনজীদা খাতুন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান থেকে রবীন্দ্রনাথের দুটি গানের এক্সটেন্ডেড প্লে রেকর্ড প্রকাশিত হয় তার। ১৯৮১ সালে রবীন্দ্রনাথের গানের লংপ্লে ‘অতল জলের আহ্বান’ প্রকাশিত হয় বাংলাদেশে। ১৯৫৭ সাল থেকে ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করে ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৮৮ সালে কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধি দেয়। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘দেশিকোত্তম’ দেওয়া হয় এ সংগীতজ্ঞকে।

পপির জন্মদিন আজ

Popy-01পপির জন্ম খুলনার শিববাড়ীর জমিদার বাড়ির ইব্রাহিম মিয়া (পপির দাদার নাম) রোডে। মুন্নুজান স্কুলে পড়াশোনাকালীন ১৯৯৫ সালে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী হিসেবে মিডিয়ায় তার অভিষেক ঘটে। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘নায়ক’ নাটকে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ ছবি দিয়ে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘জীবন যন্ত্রণা’, ‘শর্টকাটে বড়লোক’, ‘পৌষ মাসের পিরিতি’।

নিজের জন্মদিনটি এবার পরিবারের সঙ্গেই কাটাবেন বলে জানালেন পপি। তবে দিনের একটি নির্ধারিত সময়ে তিনি গরিব এতিম বাচ্চাদের সঙ্গেও কাটাবেন বলে জানিয়েছেন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এ তারকার জন্মদিনে রইলো অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এটিএম শামসুজ্জামান এর জন্মদিন আজ

ATM Samsuzzamজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই চলচ্চিত্র তারকার জন্মদিন আজ। এরা হচ্ছেন- এটিএম শামসুজ্জামান ও পপি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এটিএম শামসুজ্জামান এ পর্যন্ত পেয়েছেন পাঁচ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং পপি পেয়েছেন তিনবার। চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের সম্পৃক্ততা ঘটে উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘বিশকন্যা’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে। তবে একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়ন মণি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।

এরপর অসংখ্য ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। ৫৩ বছর ধরে একাধারে চলচ্চিত্রের সঙ্গেই নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। আজ তিনি ৭৪ বছরে পা রাখছেন। এই দিনে তিনি নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিচালিত একমাত্র ছবি ‘এবাদত’। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া ছাড়া বাকিটা সময় বাসাতেই থাকবেন।

নির্মাতা নাসিরুল ইমামের স্বপ্ন

নাট্য নির্মাতা নাসিরুল ইমাম

নাট্য নির্মাতা নাসিরুল ইমাম

মিডিয়াতে সফল নাট্য নির্মাতা হিসাবে সবার কাছে পরিচিত এই প্রজন্মের তরুণ নাট্য নির্মাতা নাসিরুল ইমাম। তিনি ২০০৭ সাল থেকে টেলিভিশন মিডিয়া অঙ্গণে কাজ শুরু করেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি ৫টি নাটক ৭টি টেলিছবি এবং ২টি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন।

নাটক এবং টেলিছবি দিয়েই নির্মাতা হিসেবে তিনি পোক্ত একটি অবস্থান তৈরী করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন কর্মঠ ও মিষ্ট ভাষার মানুষ।

বর্তমানের দক্ষতা পুজি করে ভবিষ্যতে তিনি সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
6
নির্মাতা হিসেবে নাসিরুল ইমামের অভিষেক হয় নাটক ১+১=শুন্য দিয়ে। এতে অভিনয়ে ছিলেন মৌসুমী হামিদ, অন্তু করিম, মম শিউলি। দ্বিতীয় নির্মাণ বৈধ্যতে অভিনয় করেন সিদ্দিকুর রহমান, মৌসুমি নাগ, নোভা, শামীম, ড. এনামুল হক, নুপুর। স্বল্প সময়ে বিভিন্ন লোকেশনে নির্মিত নাটক এইত জীবনে-সিদ্দিকুর রহমান, শারমিন শিলা, নোভা, শামীম ছিলেন। পরেরটি আয়না পরায় অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী, বন্যামির্জা, শাইনা আমিন। অন্যদিকে মরোণত্তর সম্মাননা পুরুষ্কারে ছিলেন এ.টি.এম শামসুজ্জামান, শর্মীলি আহমেদ, তমাল, মুনীরা মিঠু।

পরবর্তীতে নাসিরুল ইমাম নির্মাণ এর জন্য বেছে নেন টেলিছবি। ভাষা আন্দোলনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত তার টেলিছবি ইতিবিত্ত, যা একুশে ফেব্র“য়ারী উপলক্ষে বিশেষভাবে এস.এ টিভিতে প্রচারিত হইয়াছে এবং দর্শক ও সমালোকের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয়ে ছিলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যয়, মনীরা মিঠু, তমাল, মাহমুদর রহমান মিটু, নাদের খান।

দ্বিতীয় টেলিছবি তোমাকে চাই, অভিনয় করেন আজিজুল হাকিম, তমালিকা কর্মকার, ফজলুর রহমান বাবু, শামীম জামান। এদিকে ছারপোকার ভালোবাসা, মুনীর খান শিমুল, তারিন, আল-মামুন, চিত্রলেখা গুহদের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সুন্দর অভিনয় দর্শকের নজর কারে।

বেশ জনপ্রিয়তা পায় What’s on your mind, অভিনয়ে শতাব্দী ওয়াদুদ, মিথিলা, মাহিন, সাগুতা ছিলেন। এরপর ক্ষয়ে যায় দিনরাত্রি, অভিনয় করেন শাহেদ শরীফ খান, বিন্দু, টয়া, শিশু শিল্পী সিমীন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে নির্মিত কাটা তারের বেড়া

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে নির্মিত কাটা তারের বেড়া


ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে কিছু দিন আগে নির্মাণ করেন কাটা তারের বেড়া, যার মাধ্যমে সিমান্তবর্তী এলাকার জীবন চিত্র ফুটে উঠেছে। যা সুটিং হয়েছিল বি.জি.বি-১৬নং ব্যাটালিয়ান হবিগঞ্জ জেলার বাল্লা সীমান্ত এলাকায়। এ নাটকের অভিনয়ে ছিলেন রওনক হাসান, অর্শা, অহনা, রাখী, মুনীরা মিঠু, আরিফ মাহবুব তমাল, সঞ্জীব, মিটু।

উল্লেখ্য যে, ‘কাটা তারের বেড়া’ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নির্মিত টেলিছবি। যা একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারের অপেক্ষায় আছে।

গত ৩০শে আগষ্ট শনিবার দুপুর ১২.১৫মিনিটে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে নাসিরুল ইমামের চিত্রনাট্য পরিচালনায় বিরতীহীন টেলিছবি একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সফর প্রচারিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন, আফরান নিশো, সাইনা আমিন, কচি খন্দকার, মুনীরা মিঠু এবং চিত্রনায়ক আমান খান।

নাসিরুল ইমাম, বলা যায় এই সময়ের সম্ভাবনাময় নির্মাতাদের একজন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারী স্যটেলাইট টিভি চ্যানেলে তার প্রত্যেকটি নাটক ও টেলিছবি প্রচারিত হয়েছে। প্রত্যেকটি কাজেই বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পাশিপার্শ্বিক বিষয় উঠে এসেছে।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে তিনি মালয়েশিয়া গেছেন। বর্তমানে তিনি দুইটি টেলিছবি ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নির্মাণের আলোচনা করতে মালয়েশিয়া আছেন।

মালয়েশিয়ায় দুইটি টেলিছবি এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন মালয়েশিয়ান প্রবাসী বাঙালি আহসান উল্লাহ (হাসান) ও উনার কয়েকজন সহযোগী বন্ধু-বান্ধব।

নাসিরুল ইমাম বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রত্যেকটি কাজেই হবে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী বাঙালিদের জীবন কাহিনীর উপর নির্মিত। তার পরিচালনায় নতুন এ দুইটি টেলিছবিটির শুটিং খুব শীঘ্রই শুরু হবে।

এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য নাসিরুল ইমাম বিশেষ ভাবে আহসান উল্লাহ (হাসান)সহ উনার বন্ধুদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কাজী সাজিদুর রহমান, এইচ.এম মিলু, রেজা হাসান, শিমুল, সামি, পিয়াস, নুরে আলম পলাশ, মাহমুদ হাসান শুভ সহ অনেক ভাই ব্রাদার। যারা প্রথম থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

নাসিরুল ইমাম আশা করেন, তিনি যাতে সারাজীবন সৎভাবে কাজ করতে পারেন।
তবে যেহেতু ছোটপর্দা দিয়েই তার আজকের এই অবস্থানের সৃষ্টি, তাই নাটক কিংবা টেলিফিল্মের মতো ভবিষ্যতে ভিন্ন ধর্মী সমাজের পারিপার্শ্বিক বিষয়ের উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তবে নিজেকে দুটো মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। সাথে চাই সবার সহযোগিতা ও ভালবাসা।’

মো. সাখাওয়াত হোসেন ডলার/
তারিখ : ০৯.০৯.২০১৪ ইং।

ইমদাদুল হক মিলনের ৬০তম জন্মদিন

Milon-01কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের ৬০তম জন্মদিন আজ।

১৯৫৫ সালের এ দিনে তিনি বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে। তার লেখা নূরজাহান উপন্যাসটি একাধিক ভাষায় অনূদিত হতে যাচ্ছে।

গত ৩০ আগস্ট এই উপন্যাসের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার আইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী স্মৃতি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, যা এশিয়ার সাহিত্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

২০০৫ সালে তিনি জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারস লেকচার সিরিজে’ বাংলা ভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে জাপানের চারটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বাংলাদেশের সাহিত্য এবং তার নিজের লেখা নিয়ে বক্তৃতা করেন।

এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকা জল, নিরন্নের কাল, পরবাস, কালোঘোড়া, নেতা যে রাতে নিহত হলেন, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমগ্র, একাত্তর, সুতোয় বাঁধা প্রজাপতি, যাবজ্জীবন, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, পর, কেমন আছ সবুজপাতা, জীবনপুর প্রভৃতি তার বিখ্যাত বই।

সম্প্রতি তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস সুতোয় বাঁধা প্রজাপতি অবলম্বনে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম নিবেদিত সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র আত্মদান-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে চ্যানেল আইতে একই সাথে স্টার সিনেপ্লেক্সেও। তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নায়ক রাজ্জাক পরিচালিত আয়না কাহিনী এবং এ বছর সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে নদী উপাখ্যান। লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার, এস এম সুলতান পদক ও বাচসাস পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

খ্যাতিমান নাট্যাভিনেতা আবুল হায়াতের ৭০তম জন্মদিন

Abul hayat-01আবুল হায়াত। একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি নাট্যাভিনেতা। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি টিভি নাটক, সিনেমা আর বিজ্ঞাপনে সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে আসছেন। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত অনেক নাটকে-ই তিনি অভিনয় করেছেন।

তবে হুমায়ুন আহমেদের বিখ্যাত মিসির আলি চরিত্রেও অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা। ঋত্বিক ঘটকের আলোচিত সিনেমা ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আজ এই গুণী অভিনেতার সত্তরতম জন্মদিন। বিশেষ এ দিনে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শৈশবের কথা
১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহন করেন আবুল হায়াত। তার বাবা আব্দুস সালাম ছিলেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে ওয়াজিউল্লাহ ইন্সটিটিউটের সাধারন সম্পাদক। স্কুল জীবন কাটে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট ও রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হোন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৬২ সালে বুয়েটে ভর্তি হোন। বুয়েটে পড়ার সময় তিনি শেরেবাংলা হলে থাকতেন। ১৯৬৭ সালে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করে ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে যোগ দানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু।

পারিবারিক জীবন
১৯৭০ সালে আবুল হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেজ বোনের ননদ মাহফুজা খাতুন শিরিনের। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জন্ম নেয় প্রথম সন্তান বিপাশা হায়াতের। ছয় বছর পর জন্ম নেয় নাতাশা।

অভিনয় জীবন
১৯৬৯ সালে ইডিপাস নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো টিভি স্ক্রিনে তার অভিনয়ের অভিষেক ঘটে। বিখ্যাত অনেক নাটক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত নাটকের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- তিতাস একটি নদীর নাম, আগুনের পরশমণি, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার, দারুচিনি দ্বীপ, জয়যাত্রা প্রর্ভৃতি। এছাড়া দীর্ঘ পথ চলার গল্প কারও অজানা নয়।

সাহিত্য জীবন
অভিনয়ের পাশাপাশি এ গুণী অভিনেতা লেখালেখিতেও সমান পারদর্শী। তিনি নিয়মিত পত্রিকায় কলাম লেখে থাকেন। প্রকাশিত হয়েছে তার বেশ কিছু উপন্যাসও। তার প্রথম প্রথম উপন্যাস বের হয় ১৯৯১ সালের বই মেলায়। উপন্যাসটির নাম আপ্লুত মরু। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে নির্ঝর সন্নিকট, এসো নীপো বনে (তিন খ), অচেনা তারা, জীবন খাতার ফুট নোট (দুই খ-) ও জিম্মি।

দুই গুণী ব্যক্তিত্বের জন্মদিন

Sabina-Lakiলাকী ইনাম :
ছয়টি গুণ আছে লাকী ইনামের। একাধারে অভিনয় শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী, নাটক লেখা, নাটক নির্দেশনা দেয়া এবং নাট্য সংগঠক হিসেবে দারুণ দক্ষ তিনি। এ ছয়টি গুণের চর্চা করে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে কাজ করছেন এ গুণী মানুষটি।

মঞ্চের পাশাপাশি টিভি মিডিয়ায়ও দারুণ জনপ্রিয় লাকী ইনাম। কিন্তু মঞ্চকে ভালোবেসে নিরলস মঞ্চকর্মী হিসেবেই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের দীর্ঘ পথ। আজ ৪ সেপ্টেম্বর নাট্যাঙ্গনের সবার প্রিয় এ গুণী মানুষটির জন্মদিন। রাইজিংবিডি পরিবার শুভেচ্ছা নিবেদন করছে নাট্যজন লাকী ইনামের জন্মদিনে।

সাবিনা ইয়াসমিন :
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে গানের পাখি বলেই ডাকা হয় তাকে। কণ্ঠ জাদুতে এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৬৫ সালে টেলিভিশনে শিশুশিল্পী হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর শুধুই সামনে চলার গল্প।

৪৯ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারে আমাদেরকে শুনিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। সংগীতের পথে এখনো হাঁটছেন তিনি। সুরের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনের এই ক্লান্তিহীন পথচলায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন। রাইজিংবিডির শুভেচ্ছা সুরের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিনেও।

মুশফিকের জন্মদিন আজ

mush7বাংলাদেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের জন্মদিন আজ। ২৬ বছরে পা দিলেন উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যান। বগুড়া শহরে ১৯৮৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুশফিকুর রহিম।

খালেদ মাসুদ পাইলটের পরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান তিনি। ২০১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মুশফিকের হাতে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব তুলে দেয়।

নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভার প্রমাণস্বরূপ খ্যাতি যেমন পেয়েছেন ঠিক তেমনি একজন নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেও দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হয়েছে মুশফিকের নাম । মাত্র ১৬ বছর ২৬৭ দিনে লর্ডস গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামেন তিনি।

ছোট্ট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেক বার জয়ের স্বাদ দিয়েছেন মুশফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১১ সালে একমাত্র টি-২০ ম্যাচে শেষ বলে ৬ মেরে জয় ছিনিয়ে আনেন টাইগার দলপতি।

আবার এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ২৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংস আজো মানুষের চোখে ভাসে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও মুশফিক। তবে এ বছরটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না তার। বাংলাদেশ টানা হারের বৃত্তে থাকায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটেই টাইগারদের সাফল্য নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে রয়েছে মুশফিকের দল। ওয়ানডে সিরিজ হারের পর বৃষ্টির বদৌলতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ।

৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সেখানে কী করতে পারে টাইগাররা তা এখন দেখার অপেক্ষায়। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুশফিক ও নাসির। মিডল অর্ডারে এই দুই ব্যাটসম্যানই শতকের দেখা পেয়েছেন।

মুশফিক জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলে রান করেছেন ২১৭৩। ১টি দ্বিশতক, ১টি শতকের সাথে সাথে রয়েছে ১৩টি অর্ধশত রানের ইনিংস। রঙ্গিন জার্সিতে ১১৯ ম্যাচে তার রান ২৯৪০। ১৬টি অর্ধশতের সঙ্গে রয়েছে ২টি শতকও।

উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে মুশফিকুর রহিম ক্রমশ দলে মিডল অর্ডারের কাণ্ডারী হয়ে উঠছেন। অধিনায়ক হিসেবেও নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিচ্ছেন। দলের প্রয়োজনে যখন যে রকম ব্যাটিং করা প্রয়োজন ঠিক সে রকম ব্যাটিং করে যাচ্ছেন।

সামনেও তার ভূয়সী ব্যাটিং ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সমান তালে এগিয়ে যাক সেটাই সবার প্রত্যাশা। সবশেষে বলব, মুশফিকের জন্মদিন শুভ হোক।

জাতীয় কবি নজরুলের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Nazrul-01সাম্য-মানবতার কবি, প্রেমের কবি, বিদ্রোহের তূর্যবাদক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। জাতীয় জাগরণের রূপকার নজরুল বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমোজ্জ্বল প্রতিভা। শিল্পী জীবনের সীমিত পরিসরে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার মূল্যায়ন এখনো সময়সাপেক্ষ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেছেন, মানব প্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসে তাদের কল্যাণে আত্ম নিবেদিত হতে তার রচনা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। তার সাহিত্যকর্ম আমাদেরকে চিরকাল স্বদেশ প্রেমে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি জাতীয় কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। আজ ভোরে ঢাকার সব পথের গন্তব্য হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে কবির সমাধি। ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হবেন কবি।

অবিভক্ত ভারতের পশ্চিবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে দুরন্ত এ শিশুটির জন্ম ১৮৯৯ সালে। ১৯৭৬ সালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তৎকালীন পিজি হসপিটালের (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) ১১৭ নম্বর কেবিনে ইন্তেকাল করেন। সে দিন ছিল বাংলা ১২ ভাদ্র।

নজরুল হয়ে উঠেছিলেন গোটা ভারত উপমহাদেশের মানুষের মুক্তি ও চেতনার কবি। বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলে, শোষকের রক্তচু উপক্ষো করে শক্তিমান লেখনীর মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ গড়ে জেল খেটেছেন একাধিকার।

নজরুল বিদ্রোহ করেছেন সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বলেছেন ‘চির উন্নত মম শির’। কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত লিখেছেন দু’হাতে।

নজরুল তদানীন্তন পূর্ববাংলায় তথা আজকের বাংলাদেশে এসেছেন অনেকবার। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুরে কৈশরের অনেকটা সময় কেটেছে তার। ব্যক্তিজীবনে প্রচণ্ড অভিমানী ছিলেন তিনি। কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুর গ্রামে বন্ধু আলী আকবর খানের বাড়িতে গেছেন। সেখানে বিখ্যাত এক মুসলিম পরিবারের কন্যা নার্গিসের সাথে তার বিয়ে হয়। পরে বিচ্ছেদ ঘটে। শেষে প্রমীলা দেবীকে বিয়ে করেন নজরুল। প্রমীলার ঘরেই তার সন্তানদের জন্ম।

জীবনের মধ্যপথে তেজদ্দীপ্ত কবি অকস্মাৎ নির্বাক হয়ে যান। চিরতরে মূক হয়ে পড়েন গানের পাখি। সময়টা ১৯৪২ সালের শেষার্ধ।

অসুস্থ নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলা সহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে তাকে সম্মানসূচত ‘ডক্টর অব লজ’ প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ সালে কবি ভূষিত হন অমর একুশে পদকে।

নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আজ সকালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজেনৈতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সকালে কবির মাজার প্রাঙ্গণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট নানা কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও রেডিও সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় কবির মাজারে স্মরণসভা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এতে সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা কবির মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হবে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শহরে সমান গুরুত্ব দিয়ে নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

নজরুল মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিন মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি নজরুলবিষয়ক একক বক্তৃতার আয়োজন করে। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ‘নজরুলকে আমরা যতটুকু জানি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আহমাদ মোস্তফা কামাল।

নজরুলবিষয়ক বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

ছবির ঝলক

0119317
Visit Today : 27
Visit Yesterday : 50
Total Visit : 119317
Hits Today : 41
Total Hits : 740893
Who's Online : 1

facebook