প্রয়াত অভিনেতা সইদ জাফরি!

Jafriপ্রয়াত হলেন ইন্দো-ব্রিটিশ অভিনেতা সইদ জাফরি। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গতকাল রবিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানান তাঁর ভাইঝি শাহিন আগরওয়াল।

নিজের ফেসবুক পেজে শাহিন লেখেন, আজ জাফরি পরিবারের এক প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটল। সইদ জাফরি তাঁর ভাই-বোনদের সঙ্গ মৃত্যু পরবর্তী জীবনে মিলিত হয়েছেন। তাঁর স্বর্গীয় বাবার কোলে ফিরে গিয়েছেন। এই সুন্দর মানুষটকে গোটা জাফরি পরিবার বিদায় জানাচ্ছে। মৃত্যুর পর দেখা হবে আবার।

সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবিটির জন্যই তাঁকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার দেয় ফিল্ম ফেয়ার। সাই পরাঞ্জপ্যের ‘চশমে বদ্দুর’ ছবিতেও নজর কাড়ে তাঁর অভিনয়। গান্ধী, আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়ার মতো আন্তর্জাতিক ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। পাঞ্জাবের মালেরকোটলায় জন্ম তাঁর।

দিল, কিষণ কানহাইয়া, ঘর হো তো অ্যায়সা, রাজা কি আয়েগি বরাত, দিওয়ানা মস্তানা, মহব্বত, জব প্যার কিসিসে হোতা হ্যায়, আন্টি নম্বর ওয়ান, আলবেলা তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর কয়েকটা।

চিত্রপরিচালক বাপ্পাদিত্যর অকালমৃত্যু

Bappadittoকলকাতার চিত্র পরিচালক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। শনিবার রাত আটটা চল্লিশের দিকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন এক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি ছবির কাজে তিনি চেরাপুঞ্জি গিয়েছিলেন। ছবির কাজ শেষ করে কলকাতায় ফিরে আসার পরই তাঁর নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। সে সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে বাড়িও ফেরেন। কিন্তু বুকে সংক্রমণের ফলে গত রবিবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে বাপ্পাদিত্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। এ দিন রাতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ‘মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর’ হয়েছিল।

বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি ‘সম্প্রদান’। তারপর একে একে ‘শিল্পান্তর’, ‘কাঁটাতার’, ‘হাউসফুল’, ‘কাগজের বউ’, ‘এলার চার অধ্যায়’-এর মতো ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। তাঁর একটি ছবি ‘শোহরা ব্রিজ’ গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিয়ান প্যানোরমা-য় নির্বাচিত হয়েছে। বাপ্পাদিত্যবাবুর বাড়ি কলকাতার নাকতলায়। তাঁর বাবা-মা জীবিত রয়েছেন। আনন্দবাজার

টালিউড অভিনেতা পীযূষ না ফেরার দেশে

Pijus gongopaddhaiশেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায় । সড়ক দুর্ঘটনায় চার দিন চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে মারা গেলেন তিনি। শনিবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে মৃত্যু হয় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেনকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে হাওড়ার দিকে যাওয়ার সময় সাঁতরাগাছি সেতুতে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’জন গুরুতর জখম হন। পীযূষের গাড়িটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মালবিকাকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর আহত হন পীযূষ। ডান হাত, ডান পা এবং বুকের ডানদিকের পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। মারাত্মক চোট ছিল মুখের দু’পাশে ও কপালে। বেলভিউ নার্সিং হোমের ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট তপন সরকারের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি বোর্ড গত চার দিন ধরে তার চিকিৎসা করছিল। গত চার দিন ধরেই তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভেন্টিলেশনে থাকার পরও তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। রক্তচাপ যথেষ্ট কম ছিল তার। সঙ্গে ছিল জ্বর। যকৃৎসহ বিভিন্ন অঙ্গ ভালভাবে কাজ করছিল না। চিকিৎসায় খুব একটা সাড়া মিলছিল না। প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় এবং হাড় ভেঙে অস্থিমজ্জা রক্তে মিশে যাওয়ায় রক্তে সংক্রমণ বাড়ছিল তার।

প্রায় দুই দশক ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পীযূষ। হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ‘আবার যখের ধন’ সিরিয়াল দিয়ে নিজের অভিনয়যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এর পর একে একে ‘জন্মভূমি’, ‘সোনার হরিণ’, ‘মেঘের পালক’, ‘আঁচল’-এর মতো সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন পীযূষ। বর্তমান বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি।

শুধু ছোট পর্দা নয়, বড় পর্দায়তেও মনে রাখার মতো বেশকিছু চরিত্রে অভিনয় করেছেন পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়। যার মধ্যে অন্যতম– ‘বাবা কেন চাকর’, ‘ইতি শ্রীকান্ত’, ‘ম্যাডলি বাঙালি’, ‘ব্যোমকেশ বক্সি’, ‘আবার ব্যোমকেশ’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘গয়নার বাক্স’ ও ‘আবর্ত’। ২০০৫ সালে ‘মহুলবনীর সেরেঙ’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়।

বড় ও ছোট পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের মঞ্চেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। বিভাস চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসুর মতো নাট্য অভিনেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে অভিনয় করেছেন পীযূষ। এ ছাড়াও সঙ্গীতের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। নিজের বেশকিছু নাটক ও ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়।

১৯৬৫ সালে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা পীযূষ পাকাপাকিভাবে কলকাতায় বসবাস করতেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এই অভিনেতা ভাল ফুটবলও খেলতেন। পীযূষ ও স্ত্রী পামেলা গঙ্গোপাধ্যায়ের এক ছেলে রয়েছে।

বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস

Shah abdul karimগানে গানে পিরিতি এতোটাই বাড়িয়ে গেলেন যে, তার অনুপস্থিতি আজও আমাদের ভারাক্রান্ত করে। আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ছয় বছর আগের এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। এই যে চলে যাওয়া এ অমোঘ নিয়তি, যেতেই হবে। তবে যারা কীর্তিমান পুরুষ তারা যাওয়ার আগে ছাপ রেখে যান। সেখানে থাকে অজস্র মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এমনকি দুঃখবোধ।

হাওরবেষ্টিত ভাটি বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম ‘উজান ধল’। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এই গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মরমী সাধক বাউল শাহ্ আব্দুল করিম। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। পানির মধ্যে দূরে বহুদূরে ছিটেফোঁটার মতো দু’চারটি গ্রাম। হওরাঞ্চলে বছরের অর্ধেক সময় কোনো কাজ থাকে না। দারিদ্র্য সেখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলা থেকেই সেই দারিদ্র্য সঙ্গী করে আব্দুল করিমের বেড়ে ওঠা। পেটের দায়ে কৃষি কাজে শ্রম দিয়েছেন অন্যের জমিতে। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কালনী নদী। হাওর আর কালনীর ঢেউ এবং হেমন্তে হাওরের বুকে সবুজ ফসলের দোলা তাকে উদাসী করে তোলে। কখনও হাতছাড়া করেননি প্রিয় একতারা; জীবদ্দশায় এটি ছিল নিত্যসঙ্গী।

জীবনের শুরু থেকেই আব্দুল করিম ভাবনা ও আবেগ গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে চাইতেন। এটিই ছিল তার প্রথম ভালোলাগা। সেই ভালোলাগার স্রোত ওই কালনীর ঢেউয়ের মতোই তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এরপর পরিচয় শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বক্সের সঙ্গে। এই আধ্যাত্মিক বাউল সাধকের নিকট তিনি দীক্ষা নেন। এ ছাড়াও তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ওস্তাদ করম উদ্দীন ও রশিদ উদ্দীনের। এরা দুজনই বাউল সাধক।

যে হাওরের নিলুয়া বাতাস তাকে করে তুলেছিল বাউল, সেই বাতাসে আলিঙ্গন করে নিজ বসত বাড়ির উঠানে চিরনিদ্রায় রয়েছেন আব্দুল করিম। পাশেই শুয়ে আছেন প্রিয়তমা স্ত্রী সরলা বিবি। ‘সরল তুমি শান্ত তুমি নূরের পুতুলা, সরল জানিয়া নাম রাখি সরলা’, এক সময়ের মনজান বিবি প্রিয়তম স্বামীর এমন গানের মধ্য দিয়ে হয়ে যান সরলা বিবি। যিনি নিজেও সাধক ছিলেন। স্বামীর বাউল সম্রাট হয়ে ওঠার পেছনে তার অবদান ও অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি। মূলত ২০০১ সালে দেশের সর্বোচ্চ খেতাব একুশে পদক প্রাপ্তির পরই আব্দুল করিম প্রচারে আসেন। তখন তার বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই, অর্থাৎ অথর্ব বৃদ্ধ। ঠিক মতো চলতে, বলতে এমনকি শুনতেও পান না। জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি বহু সম্মাননা পেয়েছেন। যদি উপযুক্ত সময়ে এই সম্মাননা পেতেন, উৎসাহ আর উদ্দীপনায় হয়তো আমাদের আরও অনেক দিয়ে যেতে পারতেন। খুব আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, আব্দুল করিমের একমাত্র সন্তান বাউল শাহ্ নূর জালাল। কিন্তু এ দেশে বাস্তবতা হলো, গুণীর স্বীকৃতি মেলে অসময়ে অথবা মৃত্যুর পরে।

প্রচলিত এই সমাজ আব্দুল করিমকে একাধিকবার বিতাড়িত করেছে, সমাজচ্যুত করেছে। দেখা গেছে কখনও কখনও এই সমাজ তাকে পুনরায় ফিরিয়েও নিয়েছে। রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের নামে গালিগালাজ করে তাকে কাফের, মুরতাদ বলে তার বিরুদ্ধে অপব্যাখ্যা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঈদের নামাজের খুতবাতেও তার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, জনৈক শিষ্যের মৃত্যু হলে তিনি গ্রামের মসজিদের মওলানাকে জানাজা পড়াতে বললে, মওলানা এক কথায় অস্বীকার করে বলেছিলেন, কাফের মুরতাদের জানাজা পড়া মুসলমানের জন্য হারাম। অবশেষে অনেক অনুনয় বিনয়ের পর শর্তজুড়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, যদি তওবা পড়ে এই সব গানবাজনার বেদাতী কায়কারবার চিরতরে বন্ধ করে দাও তাহলেই কেবল জানাজা পড়ানো যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও আব্দুল করিম সে শর্ত প্রত্যাখ্যান করার মতো সৎ সাহস দেখাতে পেরেছিলেন।অথচ বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে সমাজ তাকে ঘৃণা করতো, অবহেলা করতো, আজ সেই সমাজের লোকেরাই গর্ব করে বলে, বাউল শাহ্ আব্দুল করিম এই হাওরের সন্তান, আমাদের গ্রামের সন্তান।

তার গান গেয়ে বর্তমানে অনেকেই নিজের নাম তথাকথিত বড় শিল্পীর কাতারে লিখিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সাক্ষাতকারে তাদের মুখে আব্দুল করিমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ফুলঝুড়ি শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে জীবদ্দশায় আব্দুল করিম এদের কারও কাছে কোনো প্রকার সহায়তা তো দূরের কথা কৃতজ্ঞতা পর্যন্ত পাননি। আবার কেউ কেউ তাকে ব্যবহার করে নিজেকে শিল্প সাহিত্যের বৃহৎ সমঝদারের আসনে বসাবার প্রয়াস পেয়েছেন। এ সব কিছুর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ওই একটাই- তা হলো অর্থের মোহ এবং সস্তা যশ খ্যাতির প্রত্যাশা। ছেলে নূর জালালের কথায় এমনও জানা যায়, দেশের বরেণ্য এক কথাসাহিত্যিক কোনো এক অনুষ্ঠানে আব্দুল করিমকে সম্মানের সঙ্গে যত্ন করে ঢাকা নিয়ে আসেন। রাতভর সেখানে অনুষ্ঠান হয়। আব্দুল করিম সেখানে গান পরিবেশন করেন। কাজ শেষে সেই সাহিত্যিক আব্দুল করিমের সঙ্গে দেখা না করে, অন্যের হাতে কিছু টাকা পাঠিয়ে বিদায় করে দেন। মৃত্যুর আগেও এই অবহেলার দুঃখ তিনি ভুলতে পারেননি।

বহুজাতিক ফোন কোম্পানিগুলো এ দেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার সবচেয়ে বড় ঠিকাদারে পরিণত হয়েছে। করিমের গানেও ছিল তাদের নজর। সে গান তারা যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। দেশের কপিরাইট বিধান মোতাবেক তার পরিবারের রয়ালটি পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা তা পাননি। শুধু তাই নয়, তারা আজ করিমের কবর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কবরের পাশেই চোখে পড়ে তাদের বিজ্ঞাপন। অথচ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আশ্চর্য রকমের নির্বিকার। আব্দুল করিম কিন্তু জীবদ্দশাতেই আঁচ করতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কী ঘটবে। পরিচিতজনদের কাছে আক্ষেপ করে সেকথা তিনি বলেও গেছেন, ‘মরার পর আমার হাড়-হাড্ডি নিয়েও ব্যবসা চলবে।’

বাউল শাহ্ আব্দুল করিম রচিত গানের ছয়টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে (কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, আফতাব সঙ্গীত, গণসঙ্গীত, কালনীর কোলে ও ভাটির চিঠি)। সিলেট শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান ছিলেন করিমের একান্ত ভক্ত। তিনিই তার লেখা গানের খাতা পৌঁছে দেন বাংলা একাডেমির শামসুজ্জামান খানের কাছে। মূলত এই হান্নানই বাউল করিমকে আবিষ্কার করে তুলে আনেন আজকের এই বৃহৎ পরিমণ্ডলে।

আব্দুল করিম অসংখ্য গান লিখে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার গান এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা গেছে। বর্তমানে অনেক শিল্পীকে বিভিন্নভাবে মূল সুরের বিকৃতি ঘটিয়ে করিমের গান গাইতে দেখা যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রবণতাটি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, গানের গীত পর্যন্ত ইচ্ছেমতো এদিক-সেদিক করে ফেলা হচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা তিনি জীবদ্দশাতেই দেখে গেছেন আর নীরবে চোখের জল ফেলেছেন। এক সময় অতিষ্ঠ হয়ে কাছেন মানুষদের বলেছেন, ‘আমি যেহেতু গানের স্বরলিপি প্রণয়ন করে যেতে পারলাম না, তাই সুরের খানিকটা এদিক সেদিক হলে আপত্তি নেই কিন্তু মূল গীত যেন ঠিক রাখা হয়।’

সম্প্রতি বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের গানের গীত ও সুর সংগ্রহে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নূর জালালের পাশাপাশি এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার বাবার সঙ্গে সঙ্গ করেছেন এমন বেশ কয়েকজন বাউল শিল্পী। পাশাপাশি গানগুলোর স্বরলিপি প্রণয়নেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন দেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের গান নিয়ে কাজ করছে। উজান ধল গ্রামে বছরে দুইবার লোক উৎসব পালিত হয়। একটি ১২ সেপ্টেম্বর আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে, অন্যটি পৌষ মাসের প্রথম শুক্রবার সরলা বিবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে। সে অনুযায়ী ধারণা করতে কষ্ট হয় না আজ কালনীর পাড় ভরে উঠবে আব্দুল করিমের ভক্ত, বাউল সাধকদের পদচারণায়। উজান ধলের বাতাসে ভাসতে থাকবে করিমের গানের সুর। কান পাতলেই শোনা যাবে সেই গান।

ওজন কমাতে গিয়ে ভারতীয় নায়িকার মৃত্যু

Aarthi-Agarwal20150606182609চলে গেলেন ভারতের হায়দরাবাদের জনপ্রিয় তেলুগু অভিনেত্রী আরতি আগরওয়াল। তার ম্যানেজার ঊমা শংকর জানিয়েছেন, শনিবার ভোররাতে আমেরিকার আটলান্টায় মৃত্যু হয়েছে একত্রিশ বছর বয়সী আরতির।

টলিউড সূত্রে জানা গেছে- শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে আমেরিকায় গিয়ে লাইপোসাকশান করিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তার জেরেই এই করুণ পরিণতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাসখানেক আগে শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। তারপর সুস্থই ছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু, শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ তার বুকে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়টুকুও তিনি পাননি। তার আগে রাস্তাতেই মৃত্যু হয় জনপ্রিয় এই হায়দরাবাদি অভিনেত্রীর। আটলান্টা থেকে গাড়িতে ২০ মিনিটের পথ এগ হারবার, সেখানেই আরতির পরিবারের সদস্যরা থাকেন।

শনিবার দক্ষিণী এই অভিনেত্রীর অকস্মাৎ মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েন টলিউডের কলাকুশলীরা। মাত্র এই কয়েক বছরের অভিনয়-জীবনে প্রচুর ছবিতে কাজ করছেন আরতি আগরওয়াল। আমেরিকা থেকে সম্প্রতি ফিরে নতুন কয়েকটি ছবিতে সইও করেছিলেন।

দক্ষিণে তুমুল জনপ্রিয় হলেও, তার শুরুটা হয়েছিল হিন্দি ছবিতে। প্রথম ছবি ’পাগালপান’। তার পরেই আরতি চলে যান টলিউডে। প্রথম ছবি `নুভু নকু নাচাভ`, বিপরীতে ছিলেন ভেঙ্কটেশ। প্রথম ছবিই বাম্পার হিট। এর পর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। চিরঞ্জীবী, নাগার্জুনা, মহেশ বাবু দক্ষিণের সব বড় নায়কের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন আরতি।

বাংলাদেশি চ্যানেল দেখা যাবে ভারতে

Jay-Largeবরাবরই এ বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ আর বিরক্তি প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশি গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে। ভারতের সবকটি চ্যানেল এখানে দেখা গেলেও বাংলাদেশি কোনো চ্যানেল ভারতে প্রচার হতো না। এবার হয়তো ইতি ঘটতে যাচ্ছে একতরফা এই সংস্কৃতি বাণিজ্যের।

খুব শিগগির বাংলাদেশি চ্যানেল ভারতে দেখানোর বন্দোবস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাক্ষাৎ দেবেন বলেও জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদি দেখা করবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা অনেক দিনের। পররাষ্ট্রসচিব নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়া ছাড়াও বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, বাম নেতা এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ দেবেন।

বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবির সম্ভাব্য মীমাংসার কথাও জানিয়ে দেন জয়শঙ্কর। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান যাতে ভারতে দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয়টি বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভারতের টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে দেখা গেলেও সে দেশের টিভি অনুষ্ঠান এ দেশে দেখা যায় না। আমরা চাই বাংলাদেশের টিভি অনুষ্ঠান এ দেশের মানুষ দেখতে পাক। কীভাবে করা হবে, তা কালই শনিবার জানতে পারবেন।’

মোদির ৬ ও ৭ জুনের সফরে মোট কতগুলো চুক্তি হবে, সে বিষয়ে জয়শঙ্কর কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, ‘আমি সহজে বিশেষণ ব্যবহার করি না। কিন্তু এটা বলছি, সব দিক থেকেই এই সফর ঐতিহাসিক হতে চলেছে। সফরের কেন্দ্রবিন্দু স্থলসীমান্ত চুক্তি। এই চুক্তি সম্পাদন মোটেই কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। আর এই চুক্তিই সহযোগিতা ও শুভেচ্ছার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।’

সেই সহযোগিতার আধারেই সড়ক, রেল, নদীপথ ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় যোগাযোগের বেশ কিছু ব্যবস্থা শুরু হচ্ছে।

এই সফরে দুই দেশের মধ্যে যে বোঝাপড়া হতে চলেছে, তাতে টেলিকম ও ইন্টারনেট-ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হবে বলেও জানান জয়শঙ্কর। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফার ঋণের ঘোষণার বহর আরও বাড়ানো হবে। প্রথম দফার ঋণের বেশির ভাগই রেলওয়ে প্রকল্পে খরচ হয়েছে। এই ঋণের আওতায় মোট ১৫টি ক্ষেত্র ছিল। সেগুলোর সাতটির কাজ পুরো শেষ, বাকি আটটির কাজ শেষ হওয়ার পথে।

দ্বিতীয় দফার ঋণের পরিমাণ কত, তা না জানালেও জয়শঙ্কর বলেন, রেল ছাড়াও সড়ক, বিদ্যুৎ, বন্দর, স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সেই অর্থ খরচ হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশকে ব্যতিক্রমী প্রতিবেশী বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। এই বহুত্ববাদী সমাজকে ভারত সমর্থন করে। ভারত প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের কাছে অনেক কিছু শিখছে।

বাণিজ্য-বৈষম্য দূর করতে ভারত একান্তই আগ্রহী জানিয়ে পররাষ্ট্রসচিব জানান, বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপালের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়লে সড়ক পথে বাণিজ্য বহর অত্যন্ত বেড়ে যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতীয় লগ্নির জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়া হলে বাণিজ্য-বৈষম্য বহুলাংশে কমবে বলে জয়শঙ্কর আশাবাদী।

নেপালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন ৮ কলাকুশলী

image_37398শনিবার নেপালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন মুগ্ধা গডসে ও রাসলান মুমতাজের আসন্ন ছবির ৮ জন কলাকুশলী।

গডসে টুইটারে শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, তাঁর আসন্ন ছবির আট কলাকুশলী নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি ভীষনই মর্মাহত।

এছাড়াও নেপালের ভূমিকম্পের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ তেলেগু অভিনেতা। কে বিজয় নামে ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক একটি তেলেগু ছবি ‘এতাকারাম’-এর শ্যুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, শ্যুটিং থেকে ফেরার পথে গাড়ি উল্টে মৃত্যু হয় তাঁর।

আনিসুল হকের পক্ষে ঝাড়ু হাতে তারকারা

anisul1429355514শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান পার্কে আসা অনেকেই হতবাক হয়েছেন ঝাড়ু হাতে তারকাদের গুলশান পার্ক পরিস্কার করতে দেখে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গুলশান পার্ক পরিস্কারের এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন তারকারা।

গুলশান পার্ক পরিস্কার করার উদ্দেশে মেয়র প্রার্থী ও আনিসুল হকের আমন্ত্রনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারানা হালিম, রামেন্দু মজুমদার, এটিএম সামসুজ্জামান, শহীদুল আলম সাচ্চু, মাসুম আজিজ, আফরোজা বানু, ঝুনা চৌধুরী, কে এস ফিরোজ, আহসানুল হক মিনু, শংকর সাঁওজাল, তমালিকা কর্মকার, শাহরিয়ার নাজিম জয় সহ অনেকে।

এশিয়ান অ্যাওয়ার্ডস পেলেন শাহরুখ

Shahrukhচলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বলিউড সুপারস্টার, শাহরুখ খান লন্ডনের গ্রোভনার হাউস হোটেলে অনুষ্ঠেয় পঞ্চম বার্ষিক এশিয়ান অ্যাওয়ার্ডস জিতেছে। এই পুরস্কার পাওয়ায় শাহরুখ দারুণ খুশি।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এ সম্মান দেওয়ায় আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং সম্মানিতবোধ করছি। এটি পাওয়ার পর আমি বলতে চাই আজকে আমার এ তারকাখ্যাতির অংশীদার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেকেই যারা বিদেশে থেকেও আমাকে এবং ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে তুলেছেন।’

তিনি আরো বলেন ‘আমি এশিয়ান অ্যাওয়ার্ড জয়ী সকলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। তারা দারুণ মেধাবী এবং তাদের অর্জনগুলোও অনেক বড়। বিশেষ করে ডক্টর অমর বসু, দ্য হিন্দুজা বার্দাস অথবা জয়া মালিককের কথা বলদে চাই। আমি সেইসব মানুষদের কাতারে দাড়াতে পেরে গর্বিত যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেও মর্যাদার দিক থেকে সকলেই সমান।’

এ অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেনে ফ্যাশন আইকন হিসিবে খ্যাত গোক ওয়ান। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব ভাস্কর, মীরা শৈল, জন রোচা, মিশেল কলিন্স, নিক মোরানসহ বিশ্বখ্যাত সব তারকারা।

এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পকলা, খেলাধুলা এবং পাবলিক সার্ভিস প্রভৃতি বিষয়ে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের।

২০১০ সাল থেকে লেমন গ্রুপের তত্ত্ববধানে এই দ্য এশিয়ান অ্যাওয়ার্ড এর প্রচলন করা হয়।

বিশ্ব নাট্যদিবস সম্মাননা পাচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর

an1-1427442777২৭ মার্চ, বিশ্ব নাট্যদিবস। ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশের মঞ্চশিল্পীরা এই দিনটি উদযাপন করে আসছে। বরাবরের মতো এবারও বিশ্ব নাট্যদিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে এ দেশের মঞ্চশিল্পীরা।

দিবসটি সম্মিলিতভাবে উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী।

২৭ মার্চ বিকাল ৪টায় বিশ্ব নাট্যদিবস র‌্যালি করা হবে। র‌্যালিটি টিএসসি’র অভিজিৎ রায় হত্যার স্থান থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমীতে শেষ হবে। র‌্যালি শেষে সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালায় আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বিশ্ব আইটিআই সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মীনু হক।

স্মারক বক্তৃতা রাখবেন ফেরদৌসী মজুমদার।সভাপতিত্ত্ব করবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতি মণ্ডলীর চেয়ারম্যান ও বালাংদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী

বিশ্ব নাট্যদিবসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি-কে বিশ্ব নাট্যদিবস সম্মাননা প্রদান করা হবে।

অকালেই প্রাণ হারিয়েছেন বলিউডের কিছু অভিনেত্রী

Indian Dead Actressএকসময় অভিনয় দিয়ে মাতিয়েছেন বলিউডের রূপালী পর্দা। দর্শকরা তাদের অভিনয় দেখে হয়েছেন মুগ্ধ। কিন্তু অকালেই প্রাণ হারিয়ে দর্শকদের করেছেন অশ্রুসিক্ত। বলিউডের এমন কিছু অভিনেত্রীদের নিয়ে আমাদের এ রচনা।

মীনাকুমারী : শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে অভিনয় শুরু করেছিলেন এ অভিনেত্রী। তারপর আর পিছু ফিরতে হয়নি তাকে। ৯০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করে কুড়িয়ে নিয়েছেন দর্শকদের প্রশংসা। কিন্তু শেষটা খুব সুখের ছিল না এ অভিনেত্রীর। পাকিজা শিরোনামের শুটিং চলাকালীন লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। পরের ঘটনাটি আরও বেশি করুণ। অসুস্থ অবস্থায় যখন হাসপাতালে ছিলেন খরচ মেটানোর মতো টাকা ছিল না এ অভিনেত্রীর। ভক্তদের কাঁদিয়ে ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ পরলোক গমন করেন তিনি। এ অভিনেত্রীর কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো- পাকিজা, সাহেব বিবি অউর গোলাম, বৈজু বাওরা এবং পরিণীতা।

মধুবালা : বলিউডের সর্বকালের সেরা সুন্দরী অভিনেত্রী কে? এ প্রশ্নের জবাব অনেকে অনেকভাবেই দিতে পারেন। তবে কেউ যদি মধুবালার নাম বলেন তাহলে তার অমত করবেন এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা দীলিপ কুমারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বেশ বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে এ অভিনেত্রীকে। অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। কারণ সম্পর্কটা স্থায়ী হয়নি। এরপর ১৯৫৪ সালে সবচেয়ে ভয়ংকর সংবাদটি জানতে পারেন হার্টের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এরপর ১৯৬০ সালের দিকে তার অবস্থা প্রচন্ড খারাপ হতে থাকে। ২৩ ফেবুয়ারি ১৯৬৯ সালে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন কালজয়ী এ অভিনেত্রী।

স্মিতা পাতিল : অভিনয় জীবনে সুপারহিট কথাটা মনে হয় কম শোনেনি এ অভিনেত্রী। বিশেষ করে আশির দশকে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকরা। নমক হালাল সিনেমায় অমিতাভের সঙ্গে তার আজ রপত জায়ে গানটি এখনো অনেককেই গুনগুনিয়ে গাইতে শোনা যায়। সেসময় অভিনেতা রাজ বব্বরের সঙ্গে তার জুটি মানেই ছিল বিশেষ কিছু। তাই তো বাস্তব জীবনে এ অভিনেতাকেই জীবন সঙ্গী করেছিলেন তিনি। সব কিছু ভালোই চলছিল কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যু হয় তার।

পরভীন ববি : পারভীন ববি নামটি শুনলেই আশির দশকে পুরুষদের দেহে জেগে উঠত শিহরণ। চেহারার সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত শারীরিক গঠন। সেকারণে ‘সেক্স বোম্ব’ খ্যাতিও পেয়েছিলেন ভক্তদের কাছ থেকে। তবে সিনেমার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনায় তাকে বেশি আলোচিত করেছিল সেসময়। পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।

এ সম্পর্কই পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। হঠাৎ করেই তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের বিচ্ছেদ হয়। আর সে বিষয়টিই ঠিক মানতে পারেননি তিনি। ফলাফল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন এ অভিনেত্রী। সুস্থ হওয়ার জন্য ১৯৮৩ সালে নিউইয়র্ক পারি জমান এ তিনি। ফিরে এসেছিলেন ঠিক পাঁচ বছর পর। কিন্তু স্বাভাবিক আর হতে পারেননি। অবশেষে ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি, তার ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার করা হয় এ অভিনেত্রীর লাশ। ধারণা করা হয় আরও তিনদিন আগেই মৃত্যু হয়েছিল তার। কারণ তিনদিন আগের দুধের প্যাকেট পরে থাকতে দেখা গিয়েছিল তার গেটের বাহিরে।

দিব্যা ভারতী : মাত্র দু’বছরেই মুক্তি পেয়েছিল এ অভিনেত্রীর প্রায় বারোটি সিনেমা। সেগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গেই ছিল সুপারহিটের তকমা। কিন্তু তার বেশি সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়নি দর্শকদের। কারণ হঠাৎ করেই ১৯৯৩ সালে বাড়ির ব্যালকুনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় এ অভিনেত্রীর। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানায় রয়ে গেছে। বাড়িতে দিব্যা তার স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে থাকতেন। তার উল্লেখিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে- বিশ্বাত্মা, দিওয়ানা, বলবান, শোলা অউর শবনম

জিয়া খান : পরিচালক রামগোপাল ভার্মার সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন জিয়া। কিন্তু তারপর খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি বি টাউনে। তারপর মাত্র কয়েকটি সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এ অভিনেত্রী। সম্ভবত নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। একদিকে ক্যারিয়ার নিয়ে দুঃশ্চিন্তা তার উপর আবার শোনা গিয়েছিল প্রেমিক সুরজ পাঞ্চলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন। সহ্য করতে পারেননি এ অভিনেত্রী। তাই কিনা বেছে নিয়েছিলেন আত্মহত্যার পথ।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ২০১৩ সালের ৩ জুন নিজের শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এ অভিনেত্রী। মুত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখেছিলেন তিনি। জানা গেছে সেখানে ক্যারিয়ারের ব্যর্থতাকেই তার মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য শোনা যায়, সুরজ পাঞ্চলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা ছিল আসল কারণ। তবে এটা আসল ব্যাপারটি এখনো ধোঁয়াশায় রয়ে গেছে।

শাহরুখকে খুনের পরিকল্পনা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের!

Mujhko-Pehchaanlo-1416494792শুধু ডন চরিত্রে অভিনয় করে নয়, তিনি আদতেই বলিউডের ডন। ক্ষমতা, খ্যাতি, সম্পদ সব দিক থেকেই এখন সবার সেরা শাহরুখ খান। সেই বলিউডের ডন-ই নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের টার্গেট।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন রবি পুজারি শাহরুখ খানের ওপর হামলার ছক কষেছিল। শুধু শাহরুখই নন, টার্গেটে ছিলেন ফারহা খান ও মহেশ ভাটও।

গত আগস্টে প্রযোজক করিম মোরানির বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল রবি পুজারির দল। সোমবার, সেই গ্যাংয়ের সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে জানা গেছে, করিম মোরানির পর শাহরুখ এবং ফারহা খানের বাড়িতে হামলা চালাতে দলের লোকেদের নির্দেশ দিয়েছিল রবি পুজারি।

গত দুমাসে রবি পুজারির লোকেরা মহেশ ভাটের গতিবিধির ওপরও নজর রেখেছিল বলে জানতে পেরেছে মুম্বাই পুলিশ।

ছবির ঝলক

0117517
Visit Today : 35
Visit Yesterday : 70
Total Visit : 117517
Hits Today : 66
Total Hits : 736302
Who's Online : 1

facebook