Home » খবরের শিরোনাম, তাঁরকা পরিচিতি » হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন

হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন

Humayun Ahmedআজ শুক্রবার নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন। সৃষ্টির সুবাদে অমরত্ব পাওয়া হুমায়ূন আহমেদ চিরঞ্জীব। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজলোর কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন।

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালি জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরর্বতী শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হিসেবে তাকে বিবেচেনা করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয়, বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তিনি পথকিৃৎ। নাটক ও চলচ্চত্রি পরিচালক হিসেবেও সমাদৃত।

ছোট বেলায় হুমায়ূন আহমেদেরে নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তার বাবা নিজের নাম ফয়জুর রহমানরে সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রাখনে শামসুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ।

তার বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন হুমায়ূন আহমদ। স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন এই জনপ্রিয় লেখক। হুমায়ূন বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে সব গ্রুপের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে ঢাকা কলেজে র্ভতি হন এবং সেখান থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করনে তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলমিার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় একসময় অধ্যাপনা ছেড়ে দেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের শুরুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দূতাবাসে সিনিয়ার স্পেশাল অ্যাডভাইজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ছাত্র জীবনে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলরে সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২-এ কবি সাহিত্যিক আহমেদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স থেকে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাঙলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যমোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। এ পর্যন্ত (২০১১) তিনি দুই শতাধকি গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস প্রকাশনা করেছেন। তার রচনার প্রধান কয়কেটি বৈশিষ্টের মধ্যে অন্যতম হলো ‘গল্প-সমৃদ্ধি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তবে অলৌককিভাবে সে যাত্রায় বেঁচে যান এই গুণী লেখক।

২০১১ সালে সেপেম্বর মাসে তার দেহে আন্ত্রীয় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে টিউমার বাইরে ছড়িয়ে না-পড়ায় সহজে তার চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে সম্ভব হলেও অল্প সময়রে মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে র্দীঘ নয়মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের হসপিটালে বাংলা সাহত্যিরে এই প্রবাদপুরু মারা যান। তাকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হয়।

Referral Banners

Short URL: http://www.binodonnews.com/?p=10182

Comments are closed

ছবির ঝলক

0117517
Visit Today : 35
Visit Yesterday : 70
Total Visit : 117517
Hits Today : 51
Total Hits : 736287
Who's Online : 1

facebook